
এইচএসসি, এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি /রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি।
এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি, ভাবসম্প্রসারণ, এইচএসসি
মানুষের প্রত্যাশার শেষ নেই। যত পায় তত চায়-ততই আরও পাবার বাসনা জাগে। এ বাসনা থেকে লোভের বশবর্তী হয়ে একসময় জন্ম নেয় কু-প্রবৃত্তি। অসংযত ভোগ আকাঙ্ক্ষা তখন অন্যের জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পৃথিবীতে সম্পদের পরিমাণ নির্দিষ্ট কিন্তু মানুষের ভোগ আকাঙ্ক্ষা অসীম। পাওয়ার মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে চাওয়ার মাত্রাও বেড়ে যায়। লালসা তখন তীব্র হয়ে বিবেকের টুটি চেপে ধরে, মানবিক আচার-বিচার না মেনে কু-প্রবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে স্বীয় হীন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য মেতে ওঠে। ভোগ আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তির রসদ ছাড়া অন্য কিছু তার চোখে পড়ে না। সম্পদ, প্রতিপত্তি এবং নিজস্ব পেশী শক্তির জোরে অপরের সম্পত্তি কেড়ে নেবার পায়তারা করে। এই সর্বগ্রাসী আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যারা থাকে তারা নিতান্তই সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এ শ্রেণির উদ্দেশ্যে বাঁচার জন্য সামান্য কিছু উপকরণ সংগ্রহ করা। রাজা কিংবা বিলাসী ধনিকের প্রাচুর্য নিয়ে তার মাথা ব্যথা নেই, কিন্তু তার পরেও তারা রেহাই পায় না। ধনীর অনমনীয় ধন তৃষ্ণা এবং কু-প্রবৃত্তিজাত পেশীশক্তির কালো হাত বাড়ায় গরিবের সামান্য ধনের উপর। ছারখার হয়ে যায় তার ছোট্ট সুখের নীড়। গরিবের রক্ত চুষে কেউ হয় জোতদার, জমিদার, কোটিপতি, কেউ আবার সর্বোচ্চ ডলারধারী। আমরা যদি আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে একটু দৃষ্টি ফেরাই তবে দেখতে পাব-ব্রিটিশসহ অন্যান্য দেশগুলো আমাদের এই দরিদ্র দেশগুলোতে এসেছিল আমাদের ব্যবহার করে অধিক মুনাফা অর্জনের স্বার্থেই। ব্রিটিশরা প্রচুর ধন-সম্পত্তির মালিক হয়েও দরিদ্র দেশগুলোর সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরেছিল। ব্রিটিশদের অনুকরণে এ দেশে জন্ম নিয়েছিলল জমিদার, জোতদার কিংবা মধ্যসত্ত্বভোগী। তাদের বলগাহীন লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছিলো দুর্ভিক্ষে। দুর্দমনীয় লোভ ও ঐশ্বর্যের মোহ মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার প্রামাণও ইতিহাসে অজস্র। ক্ষমতালিপ্সু হিটলার, মুহাম্মদ বিন তুগলক- এর মত ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষকে ভিক্ষুকে পরিণত করেছিল। ক্ষমতালিপ্সু উদ্ধত বড় রাষ্ট্রগুলো পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর দিকে হাত বাড়ায়। সভ্যতার শীর্ষস্থান দাবীকারী দেশগুলো আরো প্রাচুর্যের জন্য হাত বাড়ায় অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশের দিকে। নির্লজ্জভাবে পদানত করে মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার। পুঁজিবাদী মানসিকতা ক্রমাগত মানুষের বাঁচার অধিকারকে করছে হুমকির সম্মুখীন।
সর্বগ্রাসী এই কুটিল মানসিকতা কখনই মানুষকে সত্য-সুন্দর পথ দেখাতে পারে না। মানবতার পতন হচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। সর্বাত্মকভাবে এদের প্রতিরোধ করা দরকার, নতুবা সভ্যতার বিনাশ অনিবার্য হয়ে উঠবে।
+88 01713 211 910