
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র: অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর: কবিতা
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর: কবিতা
(অনুধাবনমূলক উত্তরগুলো ভালোভাবে পড়লে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার উত্তর লিখতেও সাহায্য হবে।)
কবিতা: সোনার তরী
প্রশ্ন-১ : 'সোনার তরী' কবিতায় কবি ‘ক্ষুরধারা' শব্দ ব্যবহার করে কী বুঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এর একটি বিশিষ্ট কবিতা ‘সোনার তরী’। এটি দর্শনাশ্রয়ী রূপক কবিতা। কবিতার এই রূপকধর্মিতা রক্ষা করতে গিয়ে কবিকে ব্যবহার করতে হয়েছে কতিপয় প্রতীকী শব্দ। এর রকম একটি শব্দ - ক্ষুরধারা' ।‘ক্ষুরধারাঞ্চ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো- ক্ষুরের মতো ধারালো যে প্রবাহ বা স্রোত। বর্ষার তীব্র স্রোতপূর্ণ ভরা নদীর পরিচয় তুলে ধরার জন্য এই শব্দটির ব্যবহার হয়েছে এখানে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এর একটি সাংকেতিক বা রূপক অর্থও রয়েছে। আর এটি হলো জগতের কর্মময় ক্ষুরের মতো ধারালো জীবনস্রোত।।
প্রশ্ন-২: ‘সোনার তরী' কবিতায় কবি ‘চারিদিকে বাঁকা জল' শব্দ ব্যবহার করে কী বুঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এর একটি বিশিষ্ট কবিতা ‘সোনার তরী’। এটি দর্শনাশ্রয়ী রূপক কবিতা। কবিতার এই রূপকধর্মিতা
রক্ষা করতে গিয়ে কবিকে ব্যবহার করতে হয়েছে কতিপয় প্রতীকী শব্দ। এর রকম শব্দগুচ্ছ হলো - ‘চারিদিকে বাঁকা জল'।
‘চারিদেকে বাঁকা জল’ শব্দমালার আভিধানিক অর্থ হলো ক্ষেতের চারপাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এখানে ‘বাঁকা জল’ কালস্রোতের প্রতীক। তাছাড়া এর মধ্য দিয়ে মানব জীবনের নশ্বরতার প্রকাশও ঘটেছে। তাই কবির উপলব্ধি হয়েছে মৃত্যুরূপ জলস্রোত ঢেকে দেবে কবির জীবনকে কিন্তু কবির সৃষ্টি কর্ম থেকে যাবে অনন্ত কাল
প্রশ্ন-৩ : ‘সোনার তরী' কবিতায় কবি ‘মসী মাখা' শব্দ ব্যবহার করে কী বুঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এর একটি বিশিষ্ট কবিতা ‘সোনার তরী'। এটি দর্শনাশ্রয়ী রূপক কবিতা। কবিতার এই রূপকধর্মিতা রক্ষা করতে গিয়ে কবিকে ব্যবহার করতে হয়েছে কতিপয় প্রতীকী শব্দ। এর রকম একটি শব্দ - ‘মসী মাখা' ।
‘মসীমাখা’ শব্দের আভিধাথিক অর্থ হলো-কালিতে মাখা। কারণ, ‘মসী” শব্দের অর্থ হলো কালি। ঘনকালো মেঘে ঢাকা গ্রামের ছবি আঁকতে কবি এই শব্দের ব্যবহার করেছেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই শব্দ দ্বারা মহাকালের অন্ধকারের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৪: ‘এখন আমারে লহ করুণা করে’- কথাটি দিয়ে কবি কী বুঝাতে চেয়েছেন? -
উত্তর : প্রশ্নে উদিত কবিতাংশটুকু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত “সোনার তরী” কাব্যের ‘সোনারতরী’ শীর্ষক কবিতার অন্তর্গত। এটি একটি রূপকধর্মী কবিতা ।
কবিতাটির বাহ্যিক দৃশ্যপটে আমরা দেখতে পাই যে, একজন কৃষক তার ছোট ক্ষেতে কাজ করছে। চারিদিকে বর্ষার জল। এ জল খেলা করছে কৃষকের ছোট ক্ষেতটিতেও। ক্ষেতের পাশে বয়ে চলেছে নদী। এর মাঝেই ধান কাটা শেষ হয় কৃষকের। সে অপেক্ষা করতে থাকে নদীর পাড় ঘেঁষে । এমন সময় সে দেখতে পায় একজন মাঝি তার ছোট ডিঙি নৌকাটি বেয়ে এগিয়ে আসছে । লোকটি বড় চেনা মনে হয কৃষকের। কৃষক মাঝিকে অনুরোধ করে বলে- ‘বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।' কৃষকের কাতর আহ্বানে মাঝি নৌকা ভিড়ায়। সে তার সোনার ফসল নৌকায় থরে বিথরে তুলে দিয়ে বলে যে, এই ধান সে যেখানে খুশি নিয়ে গিয়ে, যাকে খুশি তাকে বিলিয়ে দিতে পারে। এই সবকিছুর বিনিময়ে সে নিজেও উঠতে চায় সেই ছোট তরীতে। সে মাঝির প্রতি কাতর আহ্বান জানায়- ‘এখন আমারে লহো করুণা করে।' এখানে সোনার ফসল বলতে আসলে মানুষের সারা জীবনের কৃত মহৎ কর্মগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। ‘সোনার তরী' আসলে মহাকাল। অর্থাৎ মহাকালের চিরন্তনতায় মানুষের মহৎ সৃষ্টিগুলোরই ঠাই হয়। কিন্তু ব্যক্তি মানুষের সেখানে স্থান নেই। কবির আজীবনের মহৎ সৃষ্টিগুলো মহাকালের কাছে পরম আদরনীয় । কিন্তু ব্যক্তি কবি চরম অবহেলার বস্তু।
প্রশ্ন-৫: ‘শূন্য নদী তীরে রহিনু পড়ি’- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর: প্রশ্নে উদ্বৃত কবিতাংশটুকু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত “সোনার তরী” কাব্যের ‘সোনারতরী' শীর্ষক কবিতার অন্তর্গত। এটি একটি রূপকধর্মী কবিতা।
কবিতাটির বাহ্যিক দৃশ্যপটে আমরা দেখতে পাই যে, একজন কৃষক তার ছোট ক্ষেতে কাজ করছে। চারিদিকে বর্ষার জল। এ জল খেলা করছে কৃষকের ছোট ক্ষেতটিতেও। ক্ষেতের পাশে বয়ে চলেছে নদী। এর মাঝেই ধান কাটা শেষ হয় কৃষকের। সে অপেক্ষা করতে থাকে নদীর পাড় ঘেঁষে । এমন সময় সে দেখতে পায় একজন মাঝি তার ছোট ডিঙি নৌকাটি বেয়ে এগিয়ে আসছে । লোকটি বড় চেনা মনে হয কৃষকের। কৃষক মাঝিকে অনুরোধ করে বলে- ‘বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।' কৃষকের কাতর আহ্বানে মাঝি নৌকা ভিড়ায়। সে তার সোনার ফসল নৌকায় থরে বিথরে তুলে দিয়ে বলে যে, এই ধান সে যেখানে খুশি নিয়ে গিয়ে, যাকে খুশি তাকে বিলিয়ে দিতে পারে । এই সবকিছুর বিনিময়ে সে নিজেও উঠতে চায় সেই ছোট তরীতে। সে মাঝির প্রতি কাতর আহ্বান জানায়- ‘এখন আমারে লহো করুণা করে।' কিন্তু মাঝি নির্বিকার। সে সমস্ত সোনার ফসল নিয়ে চলে যায় কৃষকে নৌকায় নেয় না। আর তখনই চরম বেদনার মধ্য দিয়ে কৃষকের উপলব্ধি হয় -শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি-যা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী। এখানে সোনার ফসল বলতে আসলে মানুষের সারা জীবনের কৃত মহৎ কর্মগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। ‘সোনার তরী” আসলে মহাকাল। অর্থাৎ মহাকালের চিরন্তনতায় মানুষের মহৎ সৃাষ্টিগুলোরই ঠাই হয়। কিন্তু ব্যক্তি মানুষের সেখানে স্থান নেই। কবির আজীবনের মহৎ সৃষ্টিগুলো মহাকালের কাছে পরম আদরনীয় । কিন্তু ব্যক্তি কবি চরম অবহেলার বস্তু।
প্রশ্ন-৬: আসন্ন দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে একলা কৃষক কোন ঘটনার আনন্দে উদ্বেল হয়েছে ?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এর একটি বিশিষ্ট কবিতা ‘সোনার তরী’। এটি দর্শনাশ্রয়ী রূপক কবিতা।
কবিতাটির বাহ্যিক দৃশ্যপটে আমরা দেখতে পাই যে, একজন কৃষক তার ছোট ক্ষেতে কাজ করছে। চারিদিকে বর্নার জল। এ চাল খেলা করছে কৃষকের ছোট ক্ষেতটিতেও। ক্ষেতের পাশে বয়ে চলেছে নদী। এর মাঝেই ধান কাটা শেষ হয় কৃষকের। সে অপেক্ষা করতে থাকে নদীর পাড় ঘেঁষে । এখন সময় সে দেখতে পায় একজন মাঝি তার ছোট ডিঙি নৌকাটি বেয়ে এগিয়ে আসছে । লোকটি বড় চেনা মনে হয কৃষকের: নিঃসঙ্গ কৃষক পরিচিত এই মাঝিকে দেখেই আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠে।
প্রশ্ন-৭: সোনার তরী কবিতায় কবি কাকে কী অনুনয় করেছে?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এর একটি বিশিষ্ট কবিতা ‘সোনার তরী'। এটি দর্শনাশ্রয়ী রূপক কবিতা।
কবিতাটির বাহ্যিক দৃশ্যপটে আমরা দেখতে পাই যে, একজন কৃষক তার ছোট ক্ষেতে কাজ করছে। চারিদিকে বর্ষার জল। এ জল খেলা করছে কৃষকের ছোট ক্ষেতটিতেও। ক্ষেতের পাশে বয়ে চলেছে নদী। এর মাঝেই ধান কাটা শেষ হয় কৃষকের। সে অপেক্ষা করতে থাকে নদীর পাড় ঘেঁষে । এমন সময় লে দেখতে পায় একজন মাঝি তার ছোট ডিঙি নৌকাটি বেয়ে এগিয়ে আসছে । লোকটি বড় চেনা মনে হয কৃষকের। কৃষক মাঝিকে অনুনয় করে বলে- ‘বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।' কৃষকের কাতর আহ্বানে মাঝি নৌকা ভিড়ায়। সে তার সোনার ফসল নৌকায় থরে বিথরে তুলে দিয়ে বলে যে, এই ধান সে যেখানে খুশি নিয়ে গিয়ে, যাকে খুশি তাকে বিলিয়ে দিতে পারে । এই সবকিছুর বিনিময়ে সে নিজেও উঠতে চায় সেই ছোট তরীতে। সে মাঝির প্রতি কাতর অনুনয় করে বলে- ‘এখন আমারে লহো করুণা করে।' এখানে সোনার ফসল বলতে আসলে মানুষের সারা জীবনের কৃত মহৎ কর্মগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। ‘সোনার তরী” আসলে মহাকাল। অর্থাৎ মহাকালের চিরন্তনতায় মানুষের মহৎ সৃাষ্টিগুলোরই ঠাই হয়। কিন্তু ব্যক্তি মানুষের সেখানে স্থান নেই। কবির আজীবনের মহৎ সৃষ্টিগুলো মহাকালের কাছে পরম আদরনীয় । কিন্তু ব্যক্তি কবি চরম অবহেলার বস্তু।
কবিতা: বিদ্রোহী
প্রশ্ন-১: ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’।-উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। অত্যাচারিত শোষিত, নিপীড়িত আর ক্রন্দনরত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তনাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিদ্রোহ এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে এই উক্তি করেছেন।
কবি অবিরাম বিদ্রোহ করছেন সকল প্রকার অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে। যেখানেই কবি অত্যাচার, অনাচার আর নিপীড়ন দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়িকের বিরুদ্ধে এবং আর্ত-মানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এবং কবি সেদিনই থামবেন যেদিন অত্যাচারী খরগ-কৃপাণ আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হবে না।
উল্লিখিত মনোভাবকে তুলে ধরতেই কবি উচ্চারণ করেছেন-‘যাবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’।
প্রশ্ন-২: আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,-ব্যাখা কর?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ রাজশক্তির অপশাসনসহ সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। আর এ জন্য কবি নিজেই বিধ্বংসী রূপে হাজির হয়েছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে এদেশের মানুষ তখন হাঁপিয়ে উঠে। সাধারণ মানুষের জীবন প্রায় বিপন্ন। প্রথম মহাযুদ্ধের প্রভাবে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশি বেনিয়াদের সাথে দেশীয় অপশক্তির সম্মিলিত অত্যাচার-নির্যাতনে ভূলুণ্ঠিত হতে থাকে মানবতা। এমন দুঃসহ পরিস্থিতিতে সকল অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন নজরুল।
কবির বিদ্রোহের স্বরূপ ও শক্তি প্রদর্শন করতেই কবি আলোচ্য উক্তি করেন।
প্রশ্ন:৩। ‘চির-উন্নত মম শির’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজের আপসহীন ও দৃঢ়চেতা সংগ্রামকে তুলে ধরতেই আলোচ্য উক্তি করেছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও নির্মম আচরণে হাঁপিয়ে উঠেছিল এদেশের আপামর মানুষ। আর্ত আর পিড়ীত মানুষের চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও তা দেখার কেউ যেন ছিল না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কবি এ অসাম্য ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিদ্রোহীর অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মানব-মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন তিনি। এবং তিনি ঘোষণা করেন যে কোনো অত্যাচারীর অত্যাচারে তার শির আর নত হবে না। তার শির থাকবে চির উন্নত। এই মনোভাবকেক তুলে ধরতেই কবি আলোচ্য উক্তি করেন।
প্রশ্ন: ৪। ‘মম এক হাঁতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’-ব্যাখা কর।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম একদিকে রোমান্টিক প্রেমিক এবং অন্যদিকে আপোসহীন বিদ্রোহী। কবির এই দ্বৈতসত্তাকে তুলে ধরতেই আালোচ্য উক্তি করেছেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম একই সাথে প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি। মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনা তাঁর কবিতার মূল মন্ত্র। আর তাই যেখানেই অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করেছেন, ব্যথিত কবি সেখানেই উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের বাণী। আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির দ্রোহ পরাধীনতার শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে। তাঁর বিদ্রোহী অসাম্যের বিরুদ্ধে। আর এই সকল প্রকার বিদ্রোহের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দনর বন্ধ করার প্রয়াসেই তাঁর এই দ্রোহ। কবি সত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই আলোচ্য উক্তি করেছেন।
প্রশ্ন-৫: কবি নিজেকে ‘মহা-প্রলয়ের নটরাজ’ বরেছেন কেন?
উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এই কবিতায় কবি নিজেকে ‘মহা-প্রলয়ের নটরাজ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। কারণ নটরাজ শিবের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে অপশক্তিকে নাশ করবেন এবং সেখানেই গড়ে তুলবেন নিপীড়ন, নির্যাতন এবং শোষণহীন মানবিক সমাজ।
ভারতীয় পুরাণ মতে, নৃত্যকলার উদ্ভাবক হিসেবে মহাদেব শিবের আর এক নাম নটরাজ। তাঁর ধ্বংসের সময়কার নৃত্যকে তাণ্ডব নৃত্য বলা হয়। গজাসুর ও কলাসুরের নিধন করতে তিনি তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। কবিও পুরাণের সে ঐতিহ্য স্মরণ করে সমকালীন প্রেক্ষাপটে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীসহ সকল প্রকার অপশক্তিকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। আর এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই কবি নিজেকে ‘মহা-প্রলয়ের নটরাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন-৬। ‘আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খলা’-কেন?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। নিয়মের নিগড়ে ফেলে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তাই নিয়মের এই নিগড় ভাঙতেই কবি আলোচ্য উক্তি করেছেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে । জন্মের পর থেকেই কবি ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারকে প্রত্যক্ষ করেছেন স্বীয় অভিজ্ঞতা থেকে । এ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলেই প্রতিবাদকারী বিরুদ্ধে নেমে এসেছে তথাকথিত আইন-কানুন আর নিয়মের বেড়াজাল। কবি তাই সব ধরনের বন্ধন ছিন্ন করে, আইনের বেড়াজাল কেটে বেরিয়ে আসার মাঝেই মুক্তি খুঁজেছেন। এই মনোভাব থেকেই কবি আলোচ্য উক্তি করেছেন।
প্রশ্ন-৭। কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এই কবিতায় কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে অভিহিত করেছেন। নিয়ম-শৃঙ্খলার নিগড়ে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচারের ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। তাই কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে ঘোষণা করেছেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে । জন্মের পর থেকেই কবি ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারকে প্রত্যক্ষ করেছেন স্বীয় অভিজ্ঞতা থেকে । এ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলেই প্রতিবাদকারী বিরুদ্ধে নেমে এসেছে তথাকথিত আইন-কানুন আর নিয়মের বেড়াজাল। কবি তাই সব ধরনের বন্ধন ছিন্ন করে, আইনের বেড়াজাল কেটে বেরিয়ে আসার মাঝেই মুক্তি খুঁজেছেন। অন্যদিকে কবি নিজেকেই সকল প্রকার অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল বলে ঘোষণা করেছেন।
এই মনোভাব থেকেই কবি আলোচ্য উক্তি করেছেন।
প্রশ্ন-৮: কবি নিজেকে ‘ অর্ফিয়াসের বাঁশরী’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এই কবিতায় কবি নিজেকে ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরী’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ বেনিয়াদের অত্যাচার আর নিপীড়নের নিগড়ে আবদ্ধ বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে জাগ্রত করার মানসে কবি গ্রিক পুরাণের অর্ফিয়াসের বাঁশির সাথে নিজের তুলনা করেছেন।
গ্রিক পুরানের একজন মহান কবি ও শিল্পী অর্ফিয়াস। তিনি তাঁর বাশির সুরে সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এমন ভাবনা থেকেই কবি নিজেকে অর্ফিয়াসের বাশি বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন-৯। ‘আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর’-ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি মনে করেন তিনি সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক। তাই কবি নিজেকে বিশ্ববিধাতার বিদ্রোহী পুত্র বা সুত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কবির সমসাময়িক সময়ের ভারতবর্ষ সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, শোষণ আর বঞ্চনার চারণভূমি। পরাধীন ভারতবর্ষে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে বৈষম্য সীমাহীন। সমাজ জীবন প্রায় অচল। এই অচলায়তনকে কবি ভাঙতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন দ্রোহের মন্ত্র। তাঁর এই দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি বিধ্বংসী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন। বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে কবি নিরন্তর দ্রোহের ধারক ও বাহক। তাই কবি নিজেকে বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী-সুত বা বীর পুত্র বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন-১০। কবি নিজেকে বেদুইন বলেছেন কেন?
উত্তর: রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই কবি নিজেকে বেদুইন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বেদুইন হলো আরবের যাযাবর জাতি। এদের স্থায়ী কোনো আবাস নেই। কঠিন মরুভূমির বুকে এরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। মরুভূমির বিরুপ পরিবেশ বা শত প্রতিকূলতা তাদের দমন করতে পারে না। আলোচ্য অংশে কবি হতোদ্যম না হয়ে বেদু্ইনদের জীবনযুদ্ধের সাথে নিজের তুলনা করে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
কবিতা: ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
প্রশ্ন-১: ‘এ-রঙের বিপরীত আছে অন্য রং’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং’- কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে অশুভ চেতনাকে বোঝানো হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। তবে এই রঙের বিপরীত রঙও এখন বাংলাদেশে দৃশ্যমান, যা হত্যা, নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসের গন্ধে ভরপুর। সারা দেশ আজ পরিণত হয়েছে পাকিস্তানি ঘাতকের অশুভ আস্তানায়। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় এই বিষয়গুলোকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন-২: ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে পাকিস্তানি শাসকদের নিপীড়ন-নির্যাতনকেই বোঝানো হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। তবে এই রঙের বিপরীত রঙও এখন বাংলাদেশে দৃশ্যমান, যা হত্যা, নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসের গন্ধে ভরপুর। সারা দেশ আজ পরিণত হয়েছে পাকিস্তানি ঘাতকের অশুভ আস্তানায়। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় এই বিষয়গুলোকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন-৩: ‘আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচ‚ড়া থরে থরে শহরের পথে’-- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচ‚ড়া থরে থরে শহরের পথে’ বলতে কবি পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের সংগ্রামী জাগরণকেই বোঝাতে চেয়েছেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। তবে এই রঙের বিপরীত রঙও এখন বাংলাদেশে দৃশ্যমান, যা হত্যা, নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসের গন্ধে ভরপুর। সারা দেশ আজ পরিণত হয়েছে পাকিস্তানি ঘাতকের অশুভ আস্তানায়। কিন্তু এ সব অত্যাচার নিপীড়নকে আড়াল করে এখানে বড় হয়ে উঠেছে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যূত্থানে শামিল হওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একত্রিত সংগ্রাম। আর এ দিকটিকেই কবি আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন-৪: ‘একুশের কৃষ্ণচ‚ড়া আমাদের চেতনারই রং’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘একুশের কৃষ্ণচ‚ড়া আমাদের চেতনারই রং’ উক্তিটি দ্বারা একুশের সংগ্রামী চেতনা এবং এর তাৎপর্যকে বোঝানো হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় বাঙালির সংগ্রামী চেতনাকেই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন-৫: ‘নক্ষত্রের মতো ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা’- বলতে কোন অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘নক্ষত্রের মতো ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা’- বলতে ভাষা আন্দোলনের মৌল চেতনাকেই বোঝানো হয়েছে।
১৯৫২ সালে মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে রাজপথে নেমে এসেছিল সালাম-বরকত-রফিকসহ অগণিত সংগ্রামী মানুষ। তাদের হাতে ছিল বাংলা ভাষায় লেখা অগণিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড। তাদের কণ্ঠে ছিল বাংলা ভাষার মধুর সব সংগ্রামী ¯েøাগান। ঘাতকের গুলিতে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে রাস্তায়, পড়ে যায় সেইসব ব্যানার, প্লেকার্ড। কিন্তু তাদের সংগ্রামী মুক্তি-চেতনা থেকে যায় অগণিত মানুষের অন্তরে, যা ১৯৬৯ সালেও জাগ্রত থাকে। আর এ দিকটি বিবেচনা করেই কবি আলোচ্য উক্তি করেছেন।
প্রশ্ন-৬: “ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর”- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতা থেকে আলোচ্য উক্তিটি নেয়া হয়েছে। এখানে কবি একুশের কৃষ্ণচূড়ার মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। একুশের কৃষ্ণচূড়া যেন সেই সব শহিদদের স্মৃতিগন্ধেই ভরপুর হয়ে আছে।
প্রশ্ন-৭: ‘দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে’-- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে’- বলতে অগণিত শহিদের রক্তে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিকটিকেই বোঝানো হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়ে ছিলেন এবং যাঁদের বুকের রক্তে রাজপথ রঙিন হয়েছিল তাদের স্মৃতিকেই ধারণ করে আছে একুশের কৃষ্ণচূড়া। কারণ কৃষ্ণচ‚ড়ার লাল রং ৫২’র ভাষা-শহিদদের রক্তদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়ার এই রং আমাদের সংগ্রামী চেতনা আর মুক্তির প্রতীক। একুশের এই চেতনাই ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে সম্ভব করে। স্বাধীনতা অর্জনের এই দিকটিকেই ‘দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে’ উক্তির মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতা: আঠারো বছর বয়স
প্রশ্ন-১: এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে। -উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর: নির্বাচিত অংশটুকু মার্ক্সীয় জীবন দর্শন পরিদ্রুত আধুনিক প্রগতিবাদী যৌবনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) রচিত “ছাড়পত্র” কাব্যের অন্তর্গত ‘আঠারো বছর বয়স' শীর্ষক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
পশ্চাদপদ এ দেশের বুকে সাহসী যৌবনের উত্থান কামনা করে কবি আলোচ্য পঙক্তির অবতারণা করেছেন।
এই কবিতায় কবি যৌবনের প্রকৃত স্বরূপটিকেও উন্মোচন করেছেন এখানে। কবি দেখিয়েছেন যৌবনই মানব জীবনের উজ্জ্বলতম সময়। কেননা, সমাজের সকল পর্যায়ে জেঁকে বসা জরা-জীর্ণতা আর কায়েমী স্বার্থের সীমাহীন বিস্তার রোধ করতে যৌবনই দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। তাছাড়া যাবতীয় অসঙ্গতির বিরুদ্ধে মাথা তুলবার বিপদজনক ঝুঁকিও গ্রহণ করে আঠারো বছর বয়স তথা যৌবন। সবকিছুকে তুচ্ছ করে এই আঠারো বছর বয়েসের তারুণ্য মানবসভ্যতার সকল স্তরেই অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। কবি মনে করেন, আমাদের দেশে এই উদ্যোমী যৌবন শক্তিরই বেশি প্রয়োজন। আর এ দিক লক্ষ রেখেই কবি উচ্চারণ করেছেন-
এ দেশের বুকে আঠার আসুক নেমে।
বস্তুত, আমাদের দেশের সকল গ্লানি, ব্যর্থতা ও অকল্যাণকে দূর করতে পারে এই আঠার বছর বয়সই। আলোচ্য অংশে কবির এই আশাবাদই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন-২. 'আঠারো বছর বয়স জানেনা কাঁদা'- কথাটির মাধ্যমে কবি কি বুঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত কবিতাংশটুকু মার্ক্সীয় জীবন দর্শন পরিদ্রুত আধুনিক প্রগতিবাদী যৌবনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) রচিত “ছাড়পত্র” কাব্যের অন্তর্গত ‘আঠারো বছর বয়স' শীর্ষক কবিতার অন্তর্গত।
কৈশোর পার হয়ে দুর্বিনীত যৌবনে পদার্পণের ফলে আঠার বছর বয়সের যে পরিবর্তন হয় তাই বোঝাতে গিয়ে কবি আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছেন।
এই কবিতায় কবি পরম যত্নের সাথে কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণের পরিক্রমাকে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। সেই সাথে যৌবনের প্রকৃত স্বরূপটিকেও উন্মোচন করেছেন এখানে। কবি দেখিয়েছেন যৌবনই মানব জীবনের উজ্জ্বলতম সময়। কেননা, সমাজের সকল পর্যায়ে জেঁকে বসা জরা-জীর্ণতা আর কায়েমী স্বার্থের সীমাহীন বিস্তার রোধ করতে যৌবনই দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। এমনকি প্রয়োজন বোধে মানুষ, দেশ তথা সভ্যতার মুক্তির অনিবার্য দাবিতে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবার দুর্দমনীয় চেতনা এই আঠারো বছর বয়সেই জেগে উঠে। আর এ কারণেই কবি উচ্চারণ করেছেন
'আঠারো বছর বয়স জানেনা কাঁদা'
বস্তুত, আঠারো বছর বয়সে মানুষ যৌবনে পদার্পণ করে বলে সে আত্মপ্রত্যয়ী হয়। জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বাধীনভাবে। শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরশীলতার দিনগুলোতে যে কান্না ছিল তা এ বয়সে দূরীভূত হয়। এটাকেই কবি এখানে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন-৩. 'আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ’- কেন ?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত কবিতাংশটুকু মার্ক্সীয় জীবন দর্শন পরিদ্রুত আধুনিক প্রগতিবাদী যৌবনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) রচিত “ছাড়পত্র” কাব্যের অন্তর্গত ‘আঠারো বছর বয়স' শীর্ষক কবিতার অন্তর্গত।
আঠার বছর বয়সের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে কবি আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
আঠার বছর বয়সকে কবি দুঃসহ বলেছেন। কারণ, এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন সময়। এ বয়সে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। অন্যের উপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে এ বয়সে নিজের পায়ে দাঁড়াবার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এ দিক থেকে তাকে কঠিন সময়ের দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। তাছাড়া সমাজের সকল পর্যায়ে জেঁকে বসা জরা-জীর্ণতা আর কায়েমী স্বার্থের সীমাহীন বিস্তার রোধ করতে বৌবনই দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। যাবতীয় অসঙ্গতির বিরুদ্ধে মাথা তুলবার বিপদজনক ঝুঁকিও গ্রহণ করে এ বয়স। এমনকি প্রয়োজন বোধে মানুষ, দেশ তথা সভ্যতার মুক্তির অনিবার্য দাবিতে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবার দুর্দমনীয় চেতনা এই আঠারো বছর বয়সেই ভেসে উঠে ভর এ কারণেই কবি উচ্চারণ করেছেন -
‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ’
বস্তুত আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে কবি মানবজীবনের যৌবনে উত্তরণকালীন সময়কে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন
প্রশ্ন-৪. “ আঠারো বছর বয়স ভয়ঙ্কর' কেন ?
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত কবিতাংশটুকু মার্ক্সীয় জীবন দর্শন পরিদ্রুত আধুনিক প্রগতিবাদী যৌবনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) রচিত “ছাড়পত্র” কাব্যের অন্তর্গত ‘আঠারো বছর বয়স' শীর্ষক কবিতার অন্তর্গত।
আঠার বছর বয়সের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে কবি আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন। ...
আঠার বছর বয়সকে কবি ভয়ঙ্কর বলেছেন। কারণ, এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন সময়। এ বয়সে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। অন্যের উপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে এ বয়সে নিজের পায়ে দাঁড়াবার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এ দিক থেকে তাকে কঠিন সময়ের দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। তাছাড়া সমাজের সকল পর্যায়ে জেঁকে বসা জরা-জীর্ণতা আর কায়েমী স্বার্থের সীমাহীন বিস্তার রোধ করতে যৌবনই দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। যাবতীয় অসঙ্গতির বিরুদ্ধে মাথা তুলবার বিপদজনক ঝুঁকিও গ্রহণ করে এ বয়স। অন্যদিকে সমাজের চারপাশে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, পীড়ন, বৈষম্য, ভেদাভেদ ইত্যাদি দেখে এ বয়সের তরুণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ভালমন্দ, ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনেক ভাবধারার সাথে এ বয়সেই সে পরিচিত হয় । আর এ কারণেই কবি উচ্চারণ করেছেন-
'আঠারো বছর বয়স ভয়ঙ্কর'
বস্তুত আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে কবি মানবজীবনের যৌবনে উত্তরণকালীন সময়কে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন-৫. তারুণ্যের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকটি সংক্ষেপে তুলে ধর ? কবি কোনটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন ?
উত্তর: মার্ক্সীয় জীবন দর্শন পরিদ্রুত আধুনিক প্রগতিবাদী যৌবনের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) রচিত “ছাড়পত্র” কাব্যের অন্তর্গত ‘আঠারো বছর বয়স' শীর্ষক কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি পরম যত্নের সাথে কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণের পরিক্রমাকে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। সেই সাথে তারুণ্যের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলোকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। কবি দেখিয়েছেন তারুণ্য বা যৌবনই মানব জীবনের উজ্জ্বলতম সময়। কেননা, সমাজের সকল পর্যায়ে জেঁকে বসা জরা-জীর্ণতা আর কায়েমী স্বার্থের সীমাহীন বিস্তার রোধ করতে যৌবনই দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। তাছাড়া যাবতীয় অসঙ্গতির বিরুদ্ধে মাথা তুলবার বিপদজনক ঝুঁকিও গ্রহণ করে যৌবন। তাই পরাজয়ের বেদনায় অশ্রুসজল কান্না এ স্পর্ধিত যৌবনের ধর্ম নয়। বরং প্রতিবাদের পদাঘাতে পাথর প্রমাণ বাধা ভেঙে চুরমার করার সাহস ও যোগ্যতা আঠার বছর বয়সের আছে। সত্য, ন্যায়, কল্যাণ এবং ঔচিত্যবোধের প্রশ্নে ভয় ও সংশয়হীন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া কবির ভাষায় কেবল এ বয়সেই সম্ভব হতে পারে। এমনকি প্রয়োজন বোধে মানুষ, দেশ তথা সভ্যতার মুক্তির অনিবার্য দাবিতে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবার দুর্দমনীয় চেতনা এই আঠারো বছর বয়সেই জেগে উঠে।
আঠারো বছর বয়স বা তারুণ্য শুধু ইতিবাচক গুণেই ঋদ্ধ নয়, এর কতগুলো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে এই বয়সকে কতগুলো জটিল প্রক্রিয়াকে অতিক্রম করতে হয়। এই সময়ে সু-বিবেচনার সাথে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্খলনের প্রচুর সম্ভাবনা থাকে। এত জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। ফলে নানা প্রকার ব্যর্থতা থাকে এসে গ্রাস করে। আর এর মধ্য দিয়ে সে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে উঠে যা সমাজ জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বস্তুত, আলোচ্য কবিতায় তারুণ্য বা আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিগককে তুলে ধরলেও কবি তারুণ্যের ইতিবাচক দিকগুলোকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। -
কবিতা: তাহারেই পড়ে মনে
প্রশ্ন-১: . ‘কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী'- কবি কাকে এবং কেন মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন ?
উত্তর: বিশিষ্ট কবি প্রতিভা সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯) রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' শীর্ষক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
কবি এখানে শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন।
পৃথিবী আজ অপূর্ব সাজে সজ্জিত। কচি কচি সবুজ পাতা আর নানা বর্ণের ফুলে ফলে চতুর্দিক আমোদিত। কারণ, প্রকৃতিতে আবির্ভাব ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। দখিনা বাতাস তার সমস্ত সৌরভকে ঢেলে দিয়ে প্রকৃতিকে করেছে বিমোহিত। কুঞ্জে কুঞ্জে আম্র মঞ্জুরির সুগন্ধ, বাতাবি লেবুর ফুলের সুবাস আর এদের বুকে ভ্রমরের চঞ্চল গুঞ্জন সমস্ত বসুন্ধরাকে যেন মাতাল করে তুলেছে। বিচিত্র বর্ণের বিচিত্র ফুলমালা সজ্জিত অজস্র বৃক্ষরাজি আর বর্ণিল ফুলের আলোকচ্ছটা যেন বসন্তেরই জয়গান ঘোষণা করছে। সমস্ত প্রকৃতি যেন আনন্দ আর উপভোগের আয়োজনে ব্যস্ত। অথচ প্রকৃতির এই উন্মাতাল আনন্দ
উৎসবের মাঝেও কবি নীরব, উদাসীন ও উন্মনা। বসন্ত-প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য কবি মনে আনন্দের শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ফুটিয়ে তুলবেন এটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু কবি আজ নিশ্চুপ, নিথর। এর কারণ, বসন্ত ঋতুর আনন্দঘন আবির্ভাবের পূর্বেই কবির প্রিয়তম কবিকে ছেড়ে চলে গেছেন নিরন্তর কুয়াশার অনন্ত আড়ালে। চলে গেছেন পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে। ফলে কবি বসন্তের আগমনের খবর রাখেন নি। বরং জানতে চেয়েছেন- “তরী তার এসেছে কি ? বেজেছে কি আগমনী গান ? ডেকেছে কি সে আমারে ?' অর্থাৎ বসন্ত আনন্দ নিয়ে এলেও শীতের বেদনা তথা প্রিয়জন হারানোর যাতনা কবিকে বাসন্তীহর্ষ থেকে তিরোহিত করেছে। তাই কবি মাঘের পুষ্প শূন্য রিক্ততার কথা ভুলতে পারছেন না। বসন্ত তার মনে কোন সাড়া জাগাতে পারছে না। বরং শীতের নিঃস্বতার মাঝেই কবি তার আপন জীবনের সাদৃশ্যকে যেন খুঁজে পেয়েছেন। কুহেলি উত্তরী তলে চলে যাওয়া মাঘমাসের বিষণ্ণতা আর অনন্ত পরপারে চলে যাওয়া তার প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা যেন একই সুরে গাঁথা। আর এ কারণেই তিনি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন ।
প্রশ্ন-২. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কার কথা কবির মনে পড়ে ? কেন ?
অথবা,‘তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারিনা কোন মতে’- কেন ভুলতে পারছেন না ?
উত্তর : বিশিষ্ট কবিপ্রতিভা সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)-এর একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা “তাহারেই পড়ে মনে' । কবিতাটি মূলত তাঁর ব্যক্তিজীবনের দুঃখবোধের স্বীকারোক্তি এবং তারই স্মৃতি তাড়িত অতীতচারী চেতনার শিল্পভাষ্য।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির মনে পড়ে তাঁর সাহিত্য সাধনার সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের কথা। তাঁর অকাল মৃত্যুর শূন্যতাকেই কবি শীত কুয়াশার রূপকে আলোচ্য কবিতায় অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া এখানে কবি প্রিয়তম স্বামীর বিয়োগ ব্যথাকেই ভুলতে না পারার কথাই বলেছেন।
পৃথিবী আজ অপূর্ব সাজে সজ্জিত। কচি কচি সবুজ পাতা আর নানা বর্ণের ফুলে ফলে চতুর্দিক আমোদিত। কারণ, প্রকৃতিতে আবির্ভাব ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। দখিনা বাতাস তার সমস্ত সৌরভকে ঢেলে দিয়ে প্রকৃতিকে করেছে বিমোহিত। কুঞ্জে কুঞ্জে আম্র মঞ্জুরির সুগন্ধ, বাতাবি লেবুর ফুলের সুবাস আর এদের বুকে ভ্রমরের চঞ্চল গুঞ্জন সমস্ত বসুন্ধরাকে যেন মাতাল করে তুলেছে। বিচিত্র বর্ণের বিচিত্র ফুলমালা সজ্জিত অজস্র বৃক্ষরাজি আর বর্ণিল ফুলের আলোকচ্ছটা যেন বসন্তেরই জয়গান ঘোষণা করছে। সমস্ত প্রকৃতি যেন আনন্দ আর উপভোগের আয়োজনে ব্যস্ত। অথচ প্রকৃতির এই উন্মাতাল আনন্দ উৎসবের মাঝেও কবি নীরব, উদাসীন ও উন্মনা। বসন্ত-প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য কবি মনে আনন্দের শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ফুটিয়ে তুলবেন এটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু কবি আজ নিশ্চুপ, নিথর। এর কারণ, বসন্ত ঋতুর আনন্দঘন আবির্ভাবের পূর্বেই কবির প্রিয়তম কবিকে ছেড়ে চলে গেছেন নিরন্তর কুয়াশার অনন্ত আড়ালে। চলে গেছেন পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে। ফলে কবি বসন্তের আগমনের খবর রাখেন নি।
মুসা স্যার, বাংলা, 01713211910
+88 01713 211 910