
#এইচএসসি, ভাবসম্প্রসারণ:সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। অথবা, পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না/পরের জন্য তোমার হৃদয় কুসুমকে প্রস্ফুটিত কর।
সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
অথবা, পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না/পরের জন্য তোমার হৃদয় কুসুমকে প্রস্ফুটিত কর।
মানুষ যখন স্বার্থপরতার সংকীর্ণ প্রাচীর পেরিয়ে উদারতার বিশালতায় উত্তীর্ণ হয় তখন সে আনন্দ-বেদনার মধ্যে নিজেকে বিস্তৃত করে দেয়। আর তখনই আসে জীবনের চরম স্বার্থকতা। এই পরিস্থিতিতেই সাধিত হয় জগতের প্রভূত কল্যাণ।
সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। বিধাতার এক অপূর্ব সৃষ্টি পুষ্প। প্রকৃতির হৃদয় নিংড়ানো এক মোহময় সৃষ্টি এটি। এই দুই অপরূপ সৃষ্টিকে কবি বাণীবদ্ধ করেছেন তাদের ত্যাগের মহিমা উদ্ধৃত করতে গিয়ে। পুষ্প শুধু একটি বীজের উত্তরসূরী হিসেবেই প্রকৃতিতে আবির্ভূত হয় না। দীর্ঘ সাধনার মধ্য দিয়ে আপন মহিমা নিয়ে প্রস্ফুটিত হয় পুষ্প। প্রস্ফুটিত পুষ্পের সুরভি বিতরণের মধ্যেই তার সার্থকতা নিহিত। তার সৌন্দর্য, সুবাস অন্যের পুলক ও আনন্দের জন্য উৎসর্গের মাঝেই তার চরম সার্থকতা। অথচ একটি কলিকে নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে, হৃদয়ের রস নিংড়ে ফুটন্ত পুষ্পে রূপান্তরিত হতে হয়েছে। এক্ষেত্রে ত্যাগ শুধু ফুলের কিন্তু প্রাপ্তি সবার। ফুলের আদর্শ গ্রহণ করে মানুষও যদি তার সর্বস্ব অপরের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করতে পারে তবেই তার জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর এবং সার্থক।
সুবিশাল এই পৃথিবীর বিস্তর মানবগোষ্ঠীর দুঃখ-বেদনা আজ পৃথিবীর বুকে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে। মানবতাহীন অত্যাচারীরর স্বার্থপরতা পুষ্পের এই আদর্শকে ভূলণ্ঠিত করেছে বারংবার। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই, বিশ্বের সবার কল্যাণ ব্রতের মধ্যেই উদযাপিত হয় জীবনের চরম সার্থকতা। যে মানুষ চরমভাবে আত্মসুখে নিমগ্ন এবং সংকীর্ণ স্বার্থের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখে প্রকৃত অর্থে তার জীবন ব্যর্থ। কারণ, তার চেনা সংকীর্ণ জীবনের বাইরে পড়ে আছে বিশাল জগৎ, সেই বিশাল জনসমুদ্রে মানব হিতার্থ যদি কেউ সামিল হতে না পারে, তবে তার জীবনের উদ্দেশ্য পুর্ণতা পায় না। স্বার্থপর হিংসাপূর্ণ হৃদয়ের মধ্যে কখনও সুখের সন্ধান মেলে না, সেখানে অনুভূত হয় না নির্মল শান্তির বাতাস। এ প্রসঙ্গে লুৎফর রহমানের একটি উক্তি স্মর্তব্য-
“যতদিন না মানুষ পরকে সুখ দিতে আনন্দবোধ করবে তত দিন তার যথার্থ কল্যাণ নাই।”
এই যথার্থ কল্যাণের স্বার্থে প্রতিটি মানুষেরই প্রয়োজন নিজের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি করা। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে তার গৌরবময় ইতিহাসের যে সমস্ত স্বাক্ষর আমরা পাই তার বাঁকে বাঁকে রয়েছে অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীর অপরিসীম ত্যাগ। তাদের ত্যাগই সকল সুন্দরের শুভ সূচনা করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), হযরত ওমর (রাঃ), তাপসী রাবেয়া, হাজী মুহম্মদ মুহসীন, দানবীর কার্নেগি প্রমুখ মহামানবেরা অপরের কল্যাণের জন্যে তাদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে মানবজাতিকে সার্থক করেছেন। তাদের এই অপরিসীম ত্যাগের সাথে আপামর জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ত্যাগের মধ্যদিয়েই হতে পারে সুখের স্বর্গ।
প্রকৃতি ও মানুষ এক অপরের পরিপূরক। প্রকৃতি তার অকুণ্ঠ ত্যাগ দিয়ে আমাদের জীবন চলার পথকে সুষম রাখার প্রয়াসে সদা নিয়োজিত। মানুষ তার ব্যত্যয় করলে তার সুখও একদিন হুমকির সম্মুখীন হতে বাধ্য। এই অগাধ এবং নির্মম সত্য উপলব্ধি করে আমাদের উচিত পরাথে এবং পৃথিবীর স্বার্থে পুষ্পের ন্যায় জীবনকে উৎসর্গ করা।
+88 01713 211 910