
#এইচএসসি, ভাবসম্প্রসারণ: অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে? তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ-সম দহে
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ-সম দহে
অন্যায় আমাদের সমাজে আজ প্রকটভাবে চেপে বসেছে। এজন্যে অন্যায়কারী তো অবশ্যই দায়ী, সেই সাথে অন্যায়কারীকে যিনি প্রশ্রয় দেন তিনিও দায়ী। অন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তাই অন্যায়কারী এবং অন্যায় সাহায্যকারী দুজনেরই ন্যায়ের বিবেচনায় শাস্তি পাওয়া উচিত।
জীবনকে শুভ্র, সুন্দর, সুখকর রাখতে অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যায় থেকে বিরত থাকলেই জীবন সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে থাকে। কিন্তু স্বার্থপর, লোভী, বিবেকহীন মানুষ স্বীয় চরিতার্থের প্রচেষ্টায় অন্যায়ের দ্বারস্থ হয় এবং মানবসমাজকে নিপীড়ন ও বেদনায় বিষাক্ত করে তোলে। অন্যায়কারীরাই বাস করেন না, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাও আছেন এবং সংখ্যায় তারা কম নয়। এসব ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা তাদের ন্যায়পরায়ন বিবেক দ্বারা সত্য, শুদ্ধ পথে পরিচালিত হন। জগতের সব কাজেই তার অন্তরের বিবেকবুদ্ধি থেকে আসে অমোঘ বিধান-অনড় নির্দেশ। কিন্তু ভীতি ও দুর্বলতার কারণে অনেক সময় মানবকুল ন্যায়ের সেই অমোঘ নির্দেশ পালনে হয় পশ্চাৎপদ। সেই মহান দায়িত্ব পালনে হয় কুণ্টিত এবং সংকুচিত। ন্যায়ের নির্দেশ পালনে এই অক্ষমতা বা দ্বিধা-দুর্বলতার অর্থ অন্যায়কে স্বীকার করা। অন্যায় সহ্য করা বা উপেক্ষা করাও প্রকারন্তরে অন্যায়কে উৎসাহিত করা হয়। এক সময় অন্যায়ের দুর্বিষহ অত্যাচারে আর্তনাদ করে উঠে পৃথিবী। ন্যায়বোধ পৃথিবী থেকে বিলুপ্তি হবার উপক্রম হয়। অন্যায়কারী অবাধে অন্যায় কাজ করে যেতে পারে যদি তার কাজে কোন বাধা না আসে। অন্যায় যার উপর হয় সে যদি প্রতিবাদ করে বা প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়ে অপরের সাহায্য কামনা করে তবে অন্যায় কর্ম অবাধে সংগঠিত হতে পারে না। সমর্থ থাকুক বা না থাকুক অন্যায়কে সহ্য করে চলবে না; শক্তি প্রয়োগ সম্ভব না হলে অন্তত ঘৃণার মাধ্যমে অন্যায় প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয়দানের ফলে আমাদের সমাজের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী ধরনের অবনতি হতে পারে তা আমরা আমাদের সমাজের দিকে দৃষ্টি দিলেই বুঝতে পারব। আমরা আমাদের গা-বাঁচানোর স্বভাবের কারণে অন্যের আহ্বানে সাড়া দেই না। একদিন অন্যরাও আমাদের বেলায় একই কাজ করবে। এভাবে প্রতিরোধকারীদের মানসিকতা যদি ভেঙে যায় তবে অন্যায়কারীকে যেমন আমাদের ঘৃণা করা উচিত তেমনি অন্যায় প্রশ্রয়কারীকেও প্রচণ্ড ধিক্কার দেয়া উচিত, যাতে তার মধ্যে প্রতিরোধের প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠে।
আমাদের সমাজে আজ অন্যায়কারীর চেয়ে অন্যায় প্রশ্রয়দাতার সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অবক্ষয় রোধ করা না গেলে সবাইকেই একদিন এ অব্যবস্থার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
+88 01713 211 910