
#এইচএসসি, ভাবসম্প্রসারণ: কীর্তিমানের মৃত্যু নেই, অথবা, মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই, অথবা, মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।
পৃথিবীতে মানুষের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত কিন্তু কাজের পরিধি ব্যাপক। সময়ের পরিধি সহজেই শেষ হয়ে যায় কিন্তু কৃতকর্মের ফল কখনই শেষ হয় না। মহৎ কাজের মাধ্যেমে মানুষ নিজেকে যুগের পর যুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
মানুষের জীবনকে দীর্ঘ বয়সের সীমারেখা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না জীবন যদি কোন কাজ না থাকে তবে সে জীবন অর্থহীন। সে নিস্ফল জীবনের অধিকারী মানুষটিকে কেউ মনে রাখে না। কিন্তু কীর্তিমান ব্যক্তির যেমন মৃত্যু নেই, তেমনি সমাপ্তি নেই। মৃত্যুর কালো স্পর্শের স্বাদ গ্রহণ করতে হয় প্রতিটি মানুষকেই। কারো দুদিন আগে, কারো দুদিন পরে। এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের নাম মৃত্যুর সাথে সাথেই মুছে যায়। কারো নাম আবার শত শত বছরেও এতটুকু অস্পষ্ট হয় না। এ বিষয়গুলো কখনই ব্যক্তি কত বছর বেঁচে থাকল তার উপর নির্ভর করে না। ঐ ব্যক্তি মানব কল্যাণে কী ভুমিকা রেখে গেলেন সেটাই মূল বিবেচ্য। অনেক আত্মসুখ নিমগ্ন মানুষ আছে যারা পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকে নিজের সুখের কথাই চিন্তা করেন। মানবকল্যাণে কোন কাজ করার মানসিকতা থাকে না। এদের কথা মানুষ কখনই মনে রাখে না। অন্যদিকে, মানব জাতির কল্যাণে যারা মহৎ কাজ করেন তাদের জীবনকালে অল্প দিন হলেও পৃথিবীর মানুষ তাকে স্মৃতিতে অম্লান করে রাখে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র একুশ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু সাহিত্যজগতে তার অমূল্য অবদান মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর জন্য তিনি মানুষের মধ্যে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন। যিনি কাজের মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের কল্যাণ করেন, তাকে বিশ্বের মানুষ হৃদয়ে শ্রদ্ধার সাথে আসন দান করে। ফলে মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য বিবেচিত হয় তাঁর কৃতকর্মের মাধ্যমেই। গৌরবোজ্জ্বল কৃতকর্মের দ্বারাই সে জীবনের সীমা অতিক্রম করে। মানুষের চিরবিদায় পরও মহৎ কর্মের নিদর্শন বিদ্যমান থেকে মানুষের অমরতা ঘোষণা করে।
প্রতিটি মানুষেরই গোপন বাসনা, সে যেন মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে। এই বাসনার প্রতি লক্ষ রেখে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত জগৎ ও মানুষের কল্যাণের জন্য অবিরত কাজ করে যাওয়া।
+88 01713 211 910