
#এইচএসসি, ভাবসম্প্রসারণ :জীবে প্রেম করে যেইজন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
#জীবে প্রেম করে যেইজন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
সৃষ্টির সেবাতেই স্রষ্টার সেবা। এ সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করলে বিধাতা মানুষের প্রতি খুশি হন। তাই সকল জীবকে ভালবাসার পথ ধরেই স্রষ্টাকে লাভ করার সাধনা করা উচিত।
স্রষ্টার কাছে প্রিয় জিনিস তার সৃষ্টি। স্রষ্টা তার সৃষ্টির মাধ্যমেই প্রকাশ করেন নিজেকে। তিনি পরোক্ষভাবে সৃষ্টির মাঝেই বিলিয়ে দেন নিজেকে। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে স্রষ্টা রচনা করেন তার সৃষ্টিকে। এ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হল মানুষ। মানুষের তাই এ সৃষ্টির প্রতি রেয়েছে আলাদা দায়িত্ব, মানুষ তার মেধা-মনন দিয়ে অন্যের সুখ-দুঃখ অনুভব করতে পারে। অন্যান্য জীবের চাহিদাসহ মানুষের বিভিন্ন চাহিদা একমাত্র মানুষই বুঝতে সক্ষম। দুঃখী যন্ত্রণাকাতর জনের সেবা করা। আর সেবা করার মানসিকতা আনতে হলে প্রথমে এদেরকে ভালবাসা দরকার। এ ভালবাসা মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয় স্রষ্টার প্রতি ভালবাসা। শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে যারা স্রষ্টাকে ভালবাসার দাবি করেন, বাস্তবে তাদের দাবি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মানুষকে ঘৃণা করে যারা শাস্ত্রের পূজা করে তাদের সাধনা ভণ্ডামির পর্যায়েই পড়ে। বিদ্রোহী কবি নজরুলের ভাষায়-
“মানুষেরে ঘৃণা করি
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল, চুম্বিছে মরি মরি।
ও’ মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে।
পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল।”
মানুষের স্পর্শকে তারা দূরে ঠেকিয়ে রেখে অর্থহীন সামাজিক রীতি ও সংস্কারের আরাধনা করে। এতে তারা প্রকারান্তরে ঈশ্বরের স্পর্শকেই দূরে সরিয়ে রাখে। গৌতমবুদ্ধ জীব হিংসা পরিত্যাগ করে সর্বভূতে প্রেম ও মানুষের মধ্যে মৈত্রি স্থাপনের উপদেশ দিয়েছিলেন। শ্রী চৈতন্যের বাণী প্রেম, মৈত্রি ও সহিষ্ণুতার বাণী, শ্রী রামকৃষ্ণের বাণী-সেবার বাণী, মানবতার বাণী আর ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর সমগ্র জীবনটাই মানবতার প্রেম। সেবা আর সহিষ্ণুতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, দানের আর ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। একদিন স্বামী বিবেকানন্দ মানব প্রেমে উদ্বেল হৃদয়ে বলেছিলেন “যতদিন ভারতবর্ষে একটি লোকও বুভুক্ষু থাকবে ততদিন আমি আমার মুক্তি চাই না।” এ উদার মানব প্রেম।
মূলত মানব সেবাই ঈশ্বর সেবা। সেই সেবার পশ্চাতে কেবল প্রত্যাশা কিংবা অভিসন্ধি থাকা উচিত নয়। প্রত্যশাবিহীন এবং স্বার্থবিমুক্ত জনসেবার মাধ্যমে ঈশ্বর সেবায় ন্যায় এক অনাবিল স্বর্গীয় আনন্দের প্রসাদ অন্তরে লাভ করা যায়। তা-ই প্রকৃত জনসেবকের চরম ও পরম প্রাপ্তি।
+88 01713 211 910