
প্রসঙ্গ: চিঠি বা পত্র। পত্রের প্রকারভেদ
প্রসঙ্গ: চিঠি বা পত্র। পত্রের প্রকারভেদ
পত্র কাকে বলে?
কখনো ব্যক্তিগত কারণে, কখনো লেখাপড়ার প্রয়োজনে, কখনো সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠানের সূত্রে, কখনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে আমাদের লিখিত যোগাযোগ করতে হয়। এই লিখিত যোগাযোগ ব্যবস্থাই হচ্ছে পত্র। তাই পত্র হয় নানা রকম। যাকে লেখা হচ্ছে, যে জন্যে লেখা হচ্ছে, যে উপলক্ষে লেখা হচ্ছে— এ সব বিচারে এক এক ধরনের পত্রের বা চিঠির এক এক রকম আঙ্গিক ও কাঠামো হয়ে থাকে। পত্র বা চিঠির ধরন অনুসারে রূপ লাভ করেছে আলাদা আলাদা রচনাশৈলী ও প্রকাশভঙ্গি। এ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পত্র বা চিঠি মোটামুটি ৮ ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
১. ব্যক্তিগত চিঠি;
২. নিমন্ত্রণপত্র বা আমন্ত্রণপত্র;
৩. মানপত্র;
৪. স্মারকলিপি;
৫. আনুষ্ঠানিক পত্র : আবেদনপত্র;
৬. আনুষ্ঠানিক পত্র : চাকরির দরখাস্ত;
৭.বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক পত্র;
৮. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি।
অনেকে নিমন্ত্রণপত্র বা আমন্ত্রণপত্র, মানপত্র ও স্মারকলিপিকে সামাজিক পত্র হিসেবে গণ্য করে থাকেন। অন্যদিকে আবেদনপত্র ও চাকরির দরখাস্তকে বৈষয়িক পত্র হিসেবে গণ্য করে থাকেন্
পত্র বা চিঠি যে ধরনেরই হোক না কেন তা লেখার ক্ষেত্রে নিচের দিকগুলো বিবেচনায় রাখা দরকার :
১. যথাযথ আঙ্গিক ও কাঠামো অনুসরণ : কোন ধরনের পত্র লেখা হচ্ছে তার উপরই পত্রের কাঠামো নির্ভর করে । ব্যক্তিগত পত্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক পত্রের পার্থক্য আছে। তাই এক এক রকম পত্রের ক্ষেত্রে ঐ ধরনের পত্রের কাঠামোগত স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অনুসরণ করতে হয় ৷
২. পত্রের বিষয়বস্তু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন : মনে রাখতে হবে যে, চিঠি পড়ার সময় প্রেরক সশরীরে উপস্থিত থাকেন না । তাই বক্তব্য বিষয় যে, স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হয় এবং কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ যেন না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার। এজন্যে বক্তব্যকে প্রয়োজন মতো বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ভাগ করে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত । পত্রের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের ধারাবাহিকতা, সঙ্গতি ও পারম্পর্য রক্ষা করতে হয়। চিঠির ভাষা সহজ, সরল, সংহত ও দ্ব্যর্থহীন হওয়াই সঙ্গত।
৩. পত্র হওয়া উচিত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় : পত্রের বা চিঠির মাধ্যমে ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ ঘটে। সুন্দর পরিচ্ছন্ন চিঠিতে প্রেরকের রুচির প্রতিফলন ঘটে। ভাষার মাধুর্যে প্রেরকের বিনয় ও সৌজন্যের প্রতিফলন ঘটে । পক্ষান্তরে হিজিবিজি ও অস্পষ্টভাবে লেখা ও কাটাকাটি করা চিঠি রচয়িতার দৈন্যকেই প্রকাশ করে ।
৪. ভাষা প্রয়োগে শুদ্ধতা থাকা চাই : চিঠির ভাষায় যদি বাক্য গঠনের ও বানানের ভুল থাকে কিংবা ভাষা ও ব্যাকরণের বিচারে শুদ্ধ বলে গণ্য না হয় তবে তাতে পত্র-লেখকের বিদ্যার মান সম্পর্কে প্রাপকের মনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তাই বাক্য গঠনের ও বানানের ক্ষেত্রে ভুল বা অপপ্রয়োগ যথাসাধ্য সংশোধন করে নিতে হয়। এ জন্যে চিঠি লিখে আবার তা অভিনিবেশ সহকারে পড়ে দেখা প্রয়োজন ।
৫. চিঠি নিজের হওয়া চাই : চিঠি অবশ্যই হবে নিজের লেখা, তাতে থাকবে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও বৈশিষ্ট্যের ছাপ। পাঠ্য বইয়ে নমুনা চিঠি ধারণা তৈরি করার জন্যে দেওয়া হয়। সেগুলো নকল বা মুখস্থ করা উচিত নয় । পাঠ্য বইয়ে দেওয়া নমুনা অনুকরণ করে নিজের চিঠিতে নিজের কথা লেখাই উচিত এবং নিজস্ব ভঙ্গিতেই তা লেখা উচিত । বিশেষত ব্যক্তিগত চিঠির ক্ষেত্রে এ কথা বেশি করে মান্য করা দরকার ।
ড. এ. আই. এম. মুসা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910