
এইচএসসি রচনা: মাদকাসক্তি: কারণ ও প্রতিকার
এইচএসসি রচনা: মাদকাসক্তি: কারণ ও প্রতিকার
ভূমিকা : বহু সমস্যায় দীর্ণ-বিদীর্ণ বাংলার ধমনীর শোণিত ধারায় আজ প্রবেশ করেছে মৃত্যু-কুটিল কালনাগিনী। সুচিন্তিত পরিকল্পনা, সমবেত শুভপ্রয়াস এবং সদিচ্ছার মধ্যস্থতায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহের যদিও বা সমাধান সম্ভব, কিন্তু নবাগত এ কালকেউটের আক্রমণ থেকে সমাজকে বিশেষত যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবে কীরূপে? বাংলার লৌহ বাসরের দুর্নীতির রন্ধ্রপথে যে ভয়ংকরী কালনাগিনীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার মৃত্যুময় বিষদংশন থেকে আমাদের জাতির লখিনদরদের বাঁচার উপায় যদি অবিলম্বে, উদ্ভাবিত বা গৃহীত না হয়, তবে এ হতভাগ্য জাতির পুনরুত্থানের স্বপ্ন অচিরেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এই ভয়ংকরী কালনাগিনী আর কেউ নয়, সে হলো মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তি কী : সাধারণত যেসব দ্রব্যসামগ্রী পান বা ব্যবহার করলে নেশা সৃষ্টি হয় তা গ্রহণ করাকে মাদকাসক্তি বলে। অন্য কথায়, নেশা জাতীয় দ্রব্যসামগ্রী যা চিন্তা ও চেতনা বিভ্রমকারী তা গ্রহণ করাই মাদকাসক্তি।
এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন-“ নেশা জাতীয় যে কোন দ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম”। (সহীহ মুসলিম) মহানবী (সা.) আরও ঘোষণা করেন-“যে জিনিসের বেশি পরিমাণের মধ্যে মাদকাসক্তির কারণ রয়েছে তার অল্প পরিমাণও হারাম।” (তিরমিযি ২য় খন্ড)
মাদক দ্রব্যের প্রকার ভেদ : নেশা সৃষ্টিকারী বা চিত্তবিভ্রমকারী দ্রব্যসমূহ মাদক দ্রব্য হিসেবে পরিচিত। এগুলোকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. প্রাকৃতিক ও
২. রাসায়নিক।
১. প্রাকৃতিক: প্রাকৃতিক উপায়ে যে সকল মাদক দ্রব্য উৎপন্ন হয় তাই প্রাকৃতিক মাদক দ্রব্য। প্রাকৃতিক মাদক দ্রব্যসমূহ প্রধানত গাছ থেকে আসে। যেমন- তাড়ি, আফিম, গাজা, ভাঙ্গ, চরশ, হাশিশ, মারিজুয়ানা ইত্যাদি।
২. রাসায়নিক: পরীক্ষাগারে রাসায়নিক ক্রিয়া বিক্রিয়ার মাধ্যমে যে মাদক দ্রব্য উৎপন্ন হয় তাই রাসায়নিক মাদক দ্রব্য। রাসায়নিক মাদক দ্রব্য প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপন্ন মাদক দ্রব্য থেকে বেশি নেশা সৃষ্টিকারী ও ক্ষতিকারক। যেমন হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন, সঞ্জীবনী সুরা, বিভিন্ন প্রকার অ্যালকোহল ইত্যাদি।
মাদকের সংখ্যা কত: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে৷ আর এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন৷
৩. মাদকের উৎস: হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। তিনটি জায়গায় প্রধানত ‘পপি উৎপাদন করা হয়। কর্কট ক্রান্তির ৮০° হতে ২৪° উত্তর দ্রাঘিমাংশের মধ্যে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল। এর পরিধি থাইল্যান্ড, বার্মা ও লাওস।
‘পপি’ উৎপাদনকারী গোল্ডেন ক্রিসেন্ট বিস্তৃত পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক জুড়ে। এর মধ্যে পাকিস্তানে উৎপন্ন হয় সিংহভাগ। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও দক্ষিণে ৯৬° হতে ১০৪° উত্তর দ্রাঘিমাংশের মধ্যে গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যবর্তী আরও একটি নতুন অঞ্চলের আভাস পেয়েছে নোরকোটিক্স বিশেষজ্ঞরা। এর নামকরণ করা হয়েছে গোল্ডেন ওয়েজ। এ অঞ্চলটি ভারত ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, জ্যামাইকা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দঃ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড-১২টি দেশে মারিজুয়ানা উৎপন্ন হচ্ছে। আমেরিকায় কলাম্বিয়া, পেরু, ব্রাজিল, বলিভিয়ায় কোকেনের উৎপাদন সীমাবদ্ধ। মেক্সিকো, যুগোশ্লাভিয়া, হাঙ্গেরীর সীমান্ত প্রদেশ, সাইপ্রাস, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, বার্মা, থাইল্যান্ড, লাওস এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে তাসমেনিয়ায় আফিম ও হেরোইন উৎপাদিত হচ্ছে। হাশিস উৎপাদনের জন্য জ্যামাইকা, মরক্কো, জর্দান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত ও নেপাল সমধিক পরিচিত।
মাদকাসক্তের সংখ্যা:
১. পৃথিবী: বিশ্বের শতাধিক দেশের ৫০/৬০ কোটি মানুষ মাদকে আসক্ত বলে WHO-এর রিপোর্টে প্রকাশ। ৩৬টি দেশে অত্যধিক ক্ষতিকর মাদক দ্রব্য উৎপাদন করা হলেও এর স্থানান্তর প্রক্রিয়া শতাধিক দেশকে মাদকের লীলাক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
২. বাংলাদেশ: বাংলাদেশে গত দু' বছর আগে পরিচালিত এক সরকারি জরিপে জানা গেছে যে, সমগ্র দেশে ৫০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত । কিন্তু বর্তমান চিকিৎসকদের মতে, দেশে মাদকাসক্ত লোকের সংখ্যা ৮০ লাখেরও অধিক । শুধু রাজধানীতেই ১ থেকে ১.৫ লাখ। আসক্তদের মধ্যে ১৬-৩০ বছরের লোক বেশি। প্যাথেড্রিনে আসক্তদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা বেশি।
পরিসংখ্যান করে দেখা গেছে যে, মাদকাসক্তদের শতকরা ৬ ভাগ স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শতকরা ৫ জন চোরাচালানী, শতকরা ৫ জন সাধারণ নর-নারী, শতকরা ৪.৫ জন কর্মজীবী
মাদকাসক্তির কতিপয় কারণ : বিশ্বের এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মাদক ব্যবহারের মানসিক প্রবণতা সম্পর্কে সমাজবিদ ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা হলো-
১. বেকারত্ব, হত্যাশা, বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনা, ২. সৌখিনতা ও কৌতূহল, ৩. পারিবারিক অশান্তি, ৪. প্রেমে ব্যর্থতা, ৫. মাদক ব্যবসায়ীদের প্ররোচনা , ৬. পাশ্চাত্য জীবনের অন্ধ অনুকরণ ও ৭. দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা।
মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব : মাদক দ্রব্য ব্যবহারের প্রভাব বিভিন্নরূপে দেখা দেয় যাকে আমরা পর্যালোচনার সুবিধার্থে দু'ভাগে বিভক্ত করতে পারি।
১. আত্মগত বহিঃপ্রকাশ: মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। আস্তে আস্তে তার প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। এভাবে একটি সজীব প্রাণের অস্তিত্বের বিনাশ ঘটে।
২. সামাজিক প্রকোপ: মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার উপকরণের অর্থ যোগার করতে গিয়ে ছিনতাই, চুরি, রাহাজানি, ধর্ষণসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচারে লিপ্ত হয়। এভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমাজ ব্যবস্থা হয়ে পড়ে অরক্ষিত।
মাদকাসক্তির প্রতিরোধ চিন্তা: পাশ্চাত্য সভ্যতা নামক বিষবৃক্ষের বিষফল মাদকাসক্তির সর্ববিধ্বংসী রূপ আজকের বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে। সমগ্র বিশ্বের বিবেকবানরাই এর প্রতিকার প্রতিরোধের সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণের নিত্য নতুন পন্থার কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন। বর্তমানে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা কোন একক সংস্থা বা শ্রেণীর পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা, মাদকাসক্তি দেশ ও জাতি তথা আন্তর্জাতিক বিধ্বংসকারী ব্যাধি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তা জঘন্যতম পাপাচার, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ একটি চরম অপরাধ। এর প্রতিরোধে তাই সকলকে সমন্বিত প্রয়াস ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে।
মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে সমাজের বিভিন্ন পক্ষ হতে যেসকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা নিম্নরূপ:
১. প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারীকে প্রতিরোধ: যারা মাদক দ্রব্য প্রস্তুত প্রচলন ও সরবরাহের কাজে জড়িত, তাদেরকে জাতীয় স্বার্থে এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. পারিবারিক কর্তব্য: প্রত্যেক পরিবার প্রধানের উচিৎ নিজেদের সন্তান- সন্ততিদের মাদক দ্রব্যের ক্ষতি সম্পর্কে উত্তম প্রশিক্ষণ দান করা এবং নিজেদের সন্তানদের মধ্যে এ কুঅভ্যাস যেন কোন মতেই গড়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকেন।
৩. শিক্ষক সমাজের দায়িত্ব : মাদকাসক্তি রোধে শিক্ষক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষকদের ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ, চিন্তা-বিশ্বাস, নির্দেশনা ও উপদেশ এবং অভ্যাসের একটি কার্যকরী প্রভাব ছাত্রদের উপর পড়ে থাকে।শিক্ষকগণ যদি ছাত্রদের মধ্যে এ বদঅভ্যাস গড়ে ওঠার ব্যাপারে সতর্ক থাকেন এবং এ মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও উপদেশ দিতে থাকেন তাহলে ছাত্ররা এ পথে পা বাড়াতে সহজে সাহস করবে না।
৪. ইমাম ও আলিম সমাজের ভূমিকা : মসজিদের ইমামগণ সময়ে সময়ে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ওয়াজ নসিহত দান করার মাধ্যমে এর বিস্তৃতি রোধ করতে পারেন।
৫. সমাজ নেতাদের কর্তব্য: মাদক দ্রব্যের প্রসার রোধকল্পে সমাজ নেতাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। কোন পাড়ার সর্দার বা সমাজ নেতা যদি মাদকাসক্তির প্রসার রোদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে প্রচেষ্টা চালান সে পাড়া বা সমাজে কখনো মাদকাসক্তির বিস্তার ও প্রসার ঘটতে পারে না।
৬. আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থা তথা সরকারের। কেননা, দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধ প্রবণতা দমন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। শক্ত হাতে মাদকাসক্তির মত অন্যতম অপরাধ দমন করতে সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তব্য: বিশ্বের সকল দেশ ও জাতিকে এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। এর উৎপাদন, সরবরাহ ও পাচার রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সংস্থারসমূহের কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাদকাসক্তির প্রতিকার ও বাংলাদেশ : মাদক বিরোধী একটি সংগঠ্ন বাংলাদেশে গঠিত হয়েছে। এর নাম “আধুনিক”। এর প্রভাবে মাদকবিরোধী প্রচার এবং অভিযান তুঙ্গে এগিয়ে এসেছে। আন্দোলনের ধারায় বাংলাদেশে প্রয়াস নেয়া হচ্ছে মাদকাসক্ত যুবকদের সুস্থ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমত মাদকাসক্ত যুবকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের সুস্থ সমাজে পুনর্বাসিত করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এছাড়াও এখন দেশে বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী সেমিনার, সভা-সমিতির আয়োজন করা হচ্ছে। তারপরেও মাদকবিরোধী চেতনাসমৃদ্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ পাঠ ইত্যাদি প্রচারমূলক কার্যক্রম প্রায় প্রতিনিয়ত চলছে। মাদকবিরোধী আন্দোলনে এসবের ভূমিকাও কম নয়। এ ব্যাপারে আমাদের গণ মাধ্যমগুলোও জোরালো ভূমিকা পালন করছে। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র- পত্রিকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা চলছে। টিভি এবং রেডিওতে মাদকাসক্তির ভয়ানক পরিণাম দেখিয়ে নাটক প্রচার করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের “ফিরিয়ে দাও অরণ্য” ধারাবাহিক নাটকটির কথা উল্লেখ করতে পারি। এছাড়াও দেশে প্রণীত হয়েছে মাদকবিরোধী শক্তিশালী আইন। মাদক দ্রব্য চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির বিধান করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
উপসংহার: এত আইন এবং কড়াকড়ির মধ্য দিয়েও কি আমাদের সমাজকে আমরা মাদক দ্রব্যের কালো থাবা থেকে রেহাই দিতে পারছি? পারছি না। এই প্রসঙ্গে আমেরিকার ঐতিহাসিক মাদকবিরোধী আইনের কথা স্মরণ করা যায়। তখন আমেরিকার উম্মুক্ত এবং চেতনাহীন জনগণ ঐ মাদকবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক নীতি গ্রহণ করেছিল। হিংসা হানাহানিতে লাখ লাখ লোক মারা যায়। শেষে উপায়ান্তর না দেখে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উক্ত আইনের বিলুপ্তি সাধন করে মাদকসেবীদের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সুতরাং শুধু আইন করলেই হবে না, বিপ্লব করলেই হবে না। বরং সংস্কারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমগ্র জনসাধারণের মাঝে প্রোথিত করতে হবে মাদকবিরোধী চেতনাকে।
+88 01713 211 910