
NTRCA School, ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য
NTRCA School, ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য আলোচনা কর।
উত্তর: নজরুল ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য ১৯২২ সালে ইংরেজ সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং জেলে নিক্ষিপ্ত হন। ঐ সময় আদলতে তিনি যে জবানবন্দী দেন তাই ১৯২৩ সালে ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তাঁর এই জবানবন্দী সাহিত্য হিসেবেও অনবদ্য। এর ভাষায় আছে কাব্যিক মাধুর্য এবং যুক্তির শানিত ধারা।
‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধটির পরিধি মাত্র চার পৃষ্ঠারও কিছু কম। কিন্তু প্রবন্ধটির বিষয় ও ভাবগত ধারণক্ষমতা বিপুল ও ব্যাপক। প্রবন্ধের ভাষাশৈলীও তীক্ষ, গভীর, রক্ষ্যভেদী, শাণিত, ঝরঝরে এবং প্রবল-গভীর সাহিত্যগুণ সমৃদ্ধ, তেজস্বী, সাহসী ও বিদ্রোহী প্রবণতামূলক।
কবি এই প্রবন্ধে লিখেছেন, পক্ষ দুটো; একটি রাজার পক্ষ, যার হাতে রাজদন্ড, অন্যটি কবির পক্ষ, যাঁর হাতে সত্য এবং ন্যায়দন্ড। রাজা অন্যায়ভাবে কবিকে বন্দি করেছেন, সেজন্য কবি অবশ্যই সত্য-পক্ষের অর্থাৎ ন্যায়পক্ষের লোক; আর রাজা সত্য-বিরোধী, ন্যায়-বিরোধী, অন্যায় পক্ষের প্রতিনিধি।
রাজার পক্ষে নিযুক্ত রয়েছেন রাজবেতনভোগী রাজকর্মচারীবৃন্দ। কিন্তু কবির পক্ষে রয়েছেন, ‘সকল রাজার রাজা, সকল বিচারকের বিচারক, আদি, অনন্তকাল ধরে সত্য জাগ্রত ভগবান।’
সকল রাজার রাজা এবং সকল বিচারকের বিচারক যিনি, আদি অনন্তকাল ধরে যিনি সত্য-তাঁকে কবি জাগ্রত ভগবান বলেছেন- সেই ভগবান আসলে শুধু হিন্দুধর্মের ভগবান নন; তিনি সকল ধর্মের সকল মানুষের চিরন্তন স্রষ্টা।
কবি লিখেছেন, কবির বিচারককে কেহ নিযুক্ত করেনি। এই মহাবিচারকের দৃষ্টিতে রাজা-প্রজা, ধনী-নির্ধন, সুখী-দুঃখী সকলেই সমান। কারণ, তিনি তো স্রষ্টা স্বয়ং। তাঁর সিংহাসনে রাজার মুকুট ও ভিখারির একতারা পাশাপাশি স্থান পায়। স্রষ্টার আইন ন্যায় ও ধর্মের উপর ভিত্তি করে রচিত। সে আইন কোন দেশবিজেতা মানব, কোন বিজিত-নির্দিষ্ট জাতির জন্য তৈরি করেনি। সে আইন যেহেতু স্রষ্টা উদ্গত; সেজন্য ‘সে-আইন বিশ্ব মানবের সত্য উপলব্ধি হতে সৃষ্ট; সে-আইন সার্বজনীন সত্যের, সে-আইন সার্বভৌমিক ভগবানের।’
কবি ভারতবর্ষের পরাধীনতাকে মেনে নিতে পারেন নি বলেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা চেয়েছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচার কবি সহ্য করতে পারেননি বলেই তিনি বিদ্রোহী হয়েছেন। সমস্ত জনগণকে অত্যাচারমুক্ত এবং অর্থনীতিকভাবে স্বচ্ছল করতে চেয়েছিলেন বলেই নজরুল বিদ্রোহ করেছিলেন। মানুষের উপকার করা ও মানবকল্যাণ সাধনা করা স্রষ্টারই নির্দেশ। সেজন্যই কবি লিখেছেন ; ‘আমার অসমাপ্ত কর্তব্য অন্যের দ্বারা সমাপ্ত হব্ েসত্যের প্রকাশ-পীড়া নিরুদ্ধ হবে না।” নজরুল মূলত সত্যের বিজয় চেয়েছেন এবং ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যিক অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন ভারতবর্ষকে লাভ করার উৎকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন তাঁর এই অসাধারণ-প্রাজ্ঞ ও দুরদর্শী প্রবন্ধে।
Musa Sir
Bangla
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910