
NTRCA School, ১৮তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়), সাজেশন ও সমাধান, অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা: নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, মুনীর চৌধুরী
নাটক : ব্যাখ্যা, রক্তাক্ত প্রান্তর : মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা ১ : এই শিবিরে তোমার আমার মাঝখানে আমার পিতার লাশ শুয়ে আছে।
উত্তরঃ ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত “রক্তাক্ত প্রান্তর” (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত।
নাটকের অন্যতম চরিত্র জোহরা বেগম ইব্রাহিম কার্দিকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে।
ইব্রাহিম কার্দির ছাড়পত্র নিয়ে জোহরা বেগম মারাঠা শিবিরে প্রবেশ করে। তখন প্রসঙ্গ ক্রমে ইব্রাহিম কার্দি তাকে নিকটে আসতে বলে এবং যে কোন বিপদে তাকে আগলে রাখতে বলে। আর সেই সময় জোহরা বেগম কার্দিকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে।
ভাগ্যের নির্মম বিড়ম্বনার কারণেই কার্দি মুসলমান হয়েও পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠাদের পক্ষ অবলম্বন করে। আর পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং স্বাজাত্যপ্রীতি থেকে জোহরা বেগম নেয় মুসলমানদের পক্ষ। যুদ্ধে মারাঠাদের বিপদ আসন্ন জেনে স্বামীকে উদ্ধার করতে জোহরা ছদ্মবেশে রাতের অন্ধকারে মারাঠা শিবিরে ছুটে যায়। আদর্শ, কৃতজ্ঞতা ও নৈতিকতার কারণে কার্দি মারাঠা পক্ষ ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে মনে প্রাণে চায় মুসলমানদের জয়, অথচ তার ফিরে যাবার পথ নেই। তাই সে আজ বড় অসহায়। তবে মৃত্যুর আগে সে অন্তত জোহরার সান্নিধ্য পেতে চায়। কিন্তু আদর্শগত প্রশ্নে জোহরাও অসহায়। কারণ, মারাঠারাই তার পিতাকে হত্যা করেছে । ফলে মারাঠা শিবিরে স্বামীর সান্নিধ্যে যাবার উপায় তার নেই। তাই সে বেদনা-দীর্ণ হৃদয়ে উচ্চারণ করেছে--
এই শিবিরে তোমার আমার মাঝখানে আমার পিতার লাশ শুয়ে আছে। আমি তোমার কাছে এগুবো কি করে ?”
বস্তুত এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকার জোহরা চরিত্রের আদর্শগত দ্বান্দ্বিক স্বরূপটিই উন্মোচন করার প্রয়াস পেয়েছেন ।
ব্যাখ্যা ২ : “মানুষকে খুন করে মানুষ। মানুষের রক্তে পিপাসা মিটায় মানুষ, জানোয়ারের রক্ত চাটে জানোয়ার”
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত “রক্তাক্ত প্রান্তর” (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি মুসলিম পক্ষের দ্বিতীয় সৈনিক রহিম শেখের। প্রথম সৈনিক বশির খাঁকে উদ্দেশ্য করে সে এই উক্তি করে।
নিশিতে শিবির পাহারা দেয়ার সময় বশির খাঁকে মশা কামড় দেয়। সে রহিম শেখকে উদ্দেশ্য করে বলে মশা রক্ত খেয়ে ঢোল হয়ে গেছে। কিন্তু রহিম শেখ এর প্রতিবাদ করে বলে, এটি মিথ্যা কথা। কেননা, শুধু জানোয়ারই মানুষের রক্ত খায় না, মানুষও মানুষের রক্ত খায়। তারই ভাই-এর রক্তে পিপাসা মিটিয়েছে পানিপথের যুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষরা। আর তাই সে বেদনাভরে উচ্চারণ করেছে-
‘মানুষকে খুন করে মানুষ । মানুষের রক্তে পিপাসা মিটায় মানুষ, জানোয়ারের রক্ত চাটে জানোয়ার ।
বস্তুত, রহিম শেখের এই উক্তির মধ্য দিয়ে পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি নাট্যকারের যুদ্ধবিরোধী জীবন-দর্শনও উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ৩ : মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের প্রগতিশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর’ (১৯৬২) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত । নবাব সুজাউদ্দৌলা নবাব নজীবদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে।
মন্নু বেগ রূপী জোহরা বেগমের চারিত্রিক পরিবর্তন এবং যুদ্ধের বিষয়ে তার শৈথিল্য, ঔদাসীন্য ও নির্বিকারত্বে নজীবদ্দৌলা বিস্ময় প্রকাশ করলে, সুজাউদ্দৌলা তাকে উদ্দেশ্য ক'রে এই উক্তি করে ।
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হিংস্রমানসে পানি পথের প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী ও মারাঠা শক্তি। দেড় মাস ধরে যমুনা তীরে শিবির স্থাপন করে আক্রমণের অপেক্ষা করছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী। মুসলিম বাহিনী প্রধান কাবুল অধিপতি আহমদ শাহ আবদালী আক্রমণের নির্দেশ দিচ্ছে না। এই জন্য নজীবউদ্দৌলা অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। আর এ থেকেই তিনি উচ্চারণ করেন-‘আমার পক্ষে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত উদাসীন থাকা সম্ভব নয়।' অথচ কিছু দিন আগে মনু বেগ তারই মত অধৈর্য ছিল। কিন্তু আজ সে সুজাউদ্দৌলার সঙ্গে দাবা খেলছে নির্বিকারভাবে। মারাঠাদের ধ্বংস করার ব্যাপারে আজ যেন সে উদাসীন শিথিল। নজীবদ্দৌলা এর রহস্য অনুধাবন করতে পারছে না। নজীবদ্দৌলা যখন মন্নু বেগের এই ঔদাসীন্যের কারণ জানতে চায় তখন সুজাউদ্দৌলা আলোচ্য উক্তি করে -
“মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়।”
বস্তুত সুজাউদ্দৌলার এই উক্তির মধ্য দিয়ে তার দার্শনিক চেতনা সম্পন্ন মনোভাবের পরিচয়টি ফুটে উঠেছে। তাছাড়া এই উক্তির মধ্য দিয়ে মানব জীবন সম্বন্ধে লেখকের উপলব্ধিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ব্যাখ্যা ৪ : আমি নিশ্চিত জানি জয় পরাজয় যাই আসুক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের প্রগতিশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত।
ইব্রাহিম কার্দি জোহরা বেগমকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে। মারাঠা পক্ষে যুদ্ধরত স্বামী ইব্রাহিম কার্দিকে স্ত্রী জোহরা বেগম ফিরিয়ে নিতে আসলে ইব্রাহিম কার্দি জোহরাকে উদ্দেশ্য ক'রে আলোচ্য উক্তি করে।
ফরাসি বাহিনী থেকে আধুনিক রণ-কৌশলে সুশিক্ষিত হয় ইব্রাহিম কার্দি। কিন্তু মুসলিম শিবিরে ধর্ণা দিলেও উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে তাকে কেউ চাকুরীতে নিতে চায়নি। অবশেষে মারাঠাধিপতি পেশবা তাকে সসম্মানে সেনাধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত করেন। তাই ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে পানিপথের প্রান্তরে ইব্রাহিম কার্দি মুসলমান হয়েও মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধরত। তবে স্বাজাত্যবোধ ও পিতৃহত্যার প্রতিশোধের কারণে স্ত্রী জোহরা মারাঠা পক্ষ অবলম্বন না করে মুসলিম বাহিনীতে যোগ দেয়। শুধু তাই নয়, ইব্রাহিম কার্দির মারাঠা পক্ষ অবলম্বনকেও জোহরা বেগম মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারে নি, বরং তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু কার্দি মারাঠাদের দুর্দিনে তাদের পক্ষ ত্যাগকে বেঈমানি বলে মনে করে। তাই সে কিছুতেই ফিরে যেতে চায় না। কিন্তু চূড়ান্ত যুদ্ধের আগে বিপদ অত্যাসন্ন জেনে জোহরা তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। কার্দি তার সিদ্ধান্তে স্থির থাকে। আবার অন্যদিকে জোহরার জন্যও তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়। একদিকে কৃতজ্ঞতাবোধ অন্যদিকে স্বাজাত্যবোধ ও স্ত্রীর প্রতি প্রেম; এই চরম দ্বান্দ্বিক সংকটে তার হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়। আর তখনই স্ত্রীর আহবানের জবাবে সে বলে-
“আমি নিশ্চিত জানি জয় পরাজয় যাই আসুক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।”
বস্তুত, এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকার ইব্রাহিম কার্দির দৃঢ় চরিত্রের স্বরূপটিকেই উন্মোচন করার প্রয়াস পেয়েছেন। আর কার্দির চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্যই নাটকের ট্রাজিক পরিণামকে অনিবার্য করে তুলেছে ।
ব্যাখ্যা ৫ : আমি পরীক্ষা করতে আসি নি গ্রহণ করতে এসেছি।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত। আলোচ্য উক্তিটি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জোহরা বেগমের। জোহরা বেগম স্বামী ইব্রাহিম কার্দিকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে।
ফরাসি বাহিনী থেকে আধুনিক রণ-কৌশলে সুশিক্ষিত হয় ইব্রাহিম কার্দি। কিন্তু মুসলিম শিবিরে ধর্ণা দিলেও উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে তাকে কেউ চাকুরীতে নিতে চায় নি। অবশেষে মারাঠাধিপতি পেশবা তাকে সসম্মানে সেনাধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত করেন। তাই ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে পানিপথের প্রান্তরে ইব্রাহিম কার্দি মুসলমান হয়েও মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধরত। তবে স্বাজাত্যবোধ ও পিতৃহত্যার প্রতিশোধের কারণে স্ত্রী জোহরা মারাঠা পক্ষ অবলম্বন না করে মুসলিম বাহিনীতে যোগ দেয়। শুধু তাই নয়, ইব্রাহিম কার্দির মারাঠা পক্ষ অবলম্বনকেও জোহরা বেগম মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেনি .বরং তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। এই লক্ষেই জোহরা বেগম ছদ্মবেশে মারাঠা শিবিরে প্রবেশ করে। কার্দি জোহরাকে দেখে অভিভূত হয়। তার রূপে সে মুগ্ধ হয়। আবেগ তাড়িত হয়ে কার্দি জানায় দীর্ঘ দিন জোহরাকে না দেখে তৃষ্ণায় তার চোখ পুড়ে খাক হয়ে গেছে। জোহরা কার্দির এই আচরণ ও উচ্চারণে মুগ্ধ হয়। সে স্বামীর কাছে জানতে চায় সে তাকে এত ভালবাসে! তখন কার্দি জোহরাকে বলে, সে আরো পরীক্ষা করতে চায় কি-না। এর জবাবে জোহরা বলে-
‘আমি পরীক্ষা করতে আসি নি গ্রহণ করতে এসেছি’
বস্তুত এই উক্তির মধ্য দিয়ে স্বামী কার্দির প্রতি জোহরা বেগমের গভীর ভালবাসার স্বরূপটিই উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ৬ : আমি নারী । আমি হৃদয় দিয়ে বিশ্ব জয় করব।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২) নাটকের তৃতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত। আলোচ্য উক্তিটি কেন্দ্রীয় চরিত্র জোহরা বেগমের। জোহরা অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে।
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠা সেনাপতি ও জোহরার স্বামী ইব্রাহিম কার্দি আহত হয়ে বন্দী হয়। জোহরা কার্দিকে মুক্ত করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। সে বাদশার নিকট থেকে কার্দির মুক্তির ফরমান নেয়। এই ফরমান নিয়ে কারাগারে যেতে চাইলে সুজাউদ্দৌলা তাকে বাধা দেয়। কারণ, সুজাউদ্দৌলার ধারণা কার্দি বীর ও ব্যক্তিত্ববান পুরুষ, সে এই মুক্তিকে ভিক্ষার সামিল মনে করতে পারে। তাই সেখানে ভেবে চিন্তে যাওয়া উচিত। তখন জোহরা বেগম সুজাউদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে উচ্চারণ
করে
“আমি নারী। আমি হৃদয় দিয়ে বিশ্ব জয় করব।”
এই উক্তির মধ্য দিয়ে জোহরা সুজাউদ্দৌলাকে বুঝাতে চেয়েছেন যে, সে নারী এবং নারীর ভালবাসা ও কোমলতা দিয়ে সে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করবে, পৃথিবীর সব কিছু জয় করবে। সে সুজাউদ্দৌলার মত যুক্তি দিয়ে কিছু পেতে চায় না, হৃদয় দিয়ে সব কিছু জয় করতে চায়।
বস্তুত এই উক্তির মধ্য দিয়ে স্বামী কার্দির প্রতি জোহরা বেগমের গভীর ভালবাসার স্বরূপটিই উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ৭ : আগামী দিনের কথা কে বলতে পারে? একজন মানুষের জীবনেরও কোনো মুহূর্ত এক রকম নয়।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর' (১৯৬২) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত । এটি সুজাউদ্দৌলার উক্তি। নবাব নজীবদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে সে এই
উক্তি করে।
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হিংস্রমানসে পানিপথের প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী ও মারাঠা শক্তি। দেড় মাস ধরে যমুনা তীরে শিবির স্থাপন করে আক্রমণের অপেক্ষা করছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী। মুসলিম বাহিনী প্রধান কাবুল অধিপতি আহমদ শাহ আবদালী আক্রমণের নির্দেশ দিচ্ছে না। এই জন্য নজীবউদ্দৌলা অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। নজীব চান এখনই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। অন্য দিকে সুজার মত হচ্ছে সেনাপতির আদেশ পেলেই যুদ্ধ শুরু হবে। আর এই আদেশের জন্যই তারা অপেক্ষা করছে। কিন্তু সুজা ও মন্নুবেগের এই নিশ্চেষ্টতা নজীবদ্দৌলাকে বিস্মিত করেছে। কারণ, দু'দিন আগেও তারা মারাঠা শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার বিষয়ে ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অথচ আজ তারা পরিপূর্ণ ভাবে নিষ্ক্রিয়। এই নিষ্ক্রিয়তা নজীবদ্দৌলাকে করেছে বিস্মিত ও বিক্ষুব্ধ। সে বলে আহমদ শাহ আবদালী এই ভারতবর্ষের কেউ নন, তাই আগামীতে হিন্দুস্থানের সমগ্র মুসলমানের ভার তাকে ও সুজাউদ্দৌলাকেই নিতে হবে। তখন নজীবদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে সুজাউদ্দৌলা বলেন-
‘আগামী দিনের কথা কে বলতে পারে। একজন মানুষের জীবনেরও কোনো দুটো মুহূর্ত এক রকম নয়।”
বস্তুত, এই উক্তির মধ্য দিয়ে সুজাউদ্দৌলার দার্শনিক চরিত্রের স্বরূপটিই উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ৮ : আমার ভাইয়ের রক্ত ঢেলে প্রদীপ জ্বেলেছে। নইলে ওর আলো এত লাল হবে কেন?
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত “রক্তাক্ত প্রান্তর” (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত। আলোচ্য উক্তিটি মুসলিম পক্ষের দ্বিতীয় সৈনিক রহিম শেখের। প্রথম সৈনিক বশির খাঁকে উদ্দেশ্য করে সে এই উক্তি করে।
কুঞ্জরপুর দুর্গের উৎসবের দৃশ্য বশির খাঁ রহিম শেখকে দেখালে, রহিম শেখ ক্ষুব্ধ হয়ে আলোচ্য উচ্চারণ করে।
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার উগ্রমানসে পানি পথের প্রান্তরে মখোমুখি হয়েছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী ও মারাঠা শক্তি। দেড় মাস ধরে যমুনা তীরে শিবির স্থাপন করে আক্রমণের অপেক্ষা করছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী। সেই শিবিরে নৈশকালীন পাহারা দিচ্ছিল বশির খাঁ ও রহিম শেখ। ঐদিকে কুঞ্জরপুর দুর্গে তথা মারাঠা শিবিরে চলছে বিজয়ের উৎসব। সেই উৎসবের দৃশ্য বশির খাঁর চোখে পড়ে। সে রহিম শেখের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, দেখ কুঞ্জরপুরের দুর্গে জোর উৎসব চলছে। তখন রহিম শেখ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। কারণ, এই যুদ্ধেই কিছুদিন আগে তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছোট ভাই মৃত্যুবরণ করেছে। আর এই যুদ্ধবাজরাই তার সোনা ভাইয়ের জীবনের খোয়াবকে নিভিয়ে দিয়েছে। তারই রক্ত খেয়ে তারা মাতাল হয়েছে এবং তারই রক্তে প্রদীপ জ্বালিয়ে আজ তারা উৎসবে মেতে উঠেছে। তার ভাইয়ের রক্তে প্রদীপ না জ্বালালে প্রদীপের রঙ এত লাল হবে কেন? তাই ক্ষুব্ধ হয়ে রহিম শেখ উচ্চারণ করে-
‘আমার ভাইয়ের রক্ত ঢেলে প্রদীপ জ্বেলেছে। নইলে ওর আলো এত লাল হবে কেন?”
বস্তুত, রহিম শেখের এই উক্তির মধ্য দিয়ে পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি নাট্যকারের যুদ্ধবিরোধী জীবন-দর্শনও উন্মোচিত হয়েছে ।
ব্যাখ্যা ৯ : মানুষের রক্ত মানুষে খায়। খেয়ে মাতাল হয়। মাতাল হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত “রক্তাক্ত প্রান্তর” (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত । আলোচ্য উক্তিটি মুসলিম পক্ষের দ্বিতীয় সৈনিক রহিম শেখের। প্রথম সৈনিক বশির খাঁকে উদ্দেশ্য করে সে এই উক্তি করে।
কুঞ্জরপুর দুর্গের উৎসবের দৃশ্য বশির খাঁ রহিম শেখকে দেখালে, রহিম শেখ ক্ষুব্ধ হয়ে আলোচ্য উচ্চারণ করে।
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হিংস্রমানসে পানিপথের প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী ও মারাঠা শক্তি। দেড় মাস ধরে যমুনা তীরে শিবির স্থাপন করে আক্রমণের অপেক্ষা করছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী। সেই শিবিরে নৈশকালীন পাহারা দিচ্ছিল বশির খাঁ ও রহিম শেখ। ঐদিকে কুঞ্জরপুর দুর্গে তথা মারাঠা শিবিরে চলছে বিজয়ের উৎসব। সেই উৎসবের দৃশ্য বশির খাঁর চোখে পড়ে। সে রহিম শেখের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, দেখ কুঞ্জরপুরের দুর্গে জোর উৎসব চলছে। তখন রহিম শেখ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। কারণ, এই যুদ্ধেই কিছুদিন আগে তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছোট ভাই মৃত্যুবরণ করেছে। আর এই যুদ্ধবাজরাই তার সোনা ভাইয়ের জীবনের খোয়াবকে নিভিয়ে দিয়েছে। তারই রক্ত খেয়ে তারা মাতাল হয়েছে এবং তারই রক্তে প্রদীপ জ্বালিয়ে আজ তারা উৎসবে মেতে উঠেছে। তার ভাইয়ের রক্তে প্রদীপ না জ্বালালে প্রদীপের রঙ এত লাল হবে কেন? তাই ক্ষুব্ধ হয়ে রহিম শেখ উচ্চারণ করে-
‘মানুষের রক্ত মানুষে খায়। খেয়ে মাতাল হয়। মাতাল হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।'
বস্তুত, রহিম শেখের এই উক্তির মধ্য দিয়ে পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি নাট্যকারের যুদ্ধবিরোধী জীবন-দর্শনও উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ১০ : লাল না নীল, সাদা না কালো, এই অন্ধকারে তা কি করে মালুম করবো।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মননশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত “রক্তাক্ত প্রান্তর” (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত। আলোচ্য উক্তিটি মুসলিম পক্ষের দ্বিতীয় সৈনিক রহিম শেখের। প্রথম সৈনিক বশির খাঁকে উদ্দেশ্য করে সে এই উক্তি করে।
প্রথম সৈনিক বশির খাঁর নিজের শরীরের রক্ত লাল বলে দাবী করলে, রহিম শেখ ব্যঙ্গ ও বিক্ষোভের সাথে আলোচ্য উক্তি করে।
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হিংস্রমানসে পানিপথের প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী ও মারাঠা শক্তি। দেড় মাস ধরে যমুনা তীরে শিবির স্থাপন করে আক্রমণের অপেক্ষা করছে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী। সেই শিবিরে নৈশকালীন পাহারা দিচ্ছিল বশির খাঁ ও রহিম শেখ। তারা পাহারা দেয়ার সময় দু একটি কথা বলছিল। আর তখনই বশির খাঁকে মশা কামড় দেয়। সে নিজের গালের মশা চপেটাঘাতের সাহায্যে মেরে ফেলে এবং রহিম শেখকে উদ্দেশ্য করে বলে মশা রক্ত খেয়ে ঢোল হয়ে গেছে। তবুও তাদের যেন পিয়াস মিটে না। পেট ভরে না। রহিম শেখ বলে, পেট ভরতো যদি তোমার শরীরে রক্ত থাকতো। বশির খাঁ তখন আরো একটি মশা মেরে দেখায় যে, তার শরীরে পানি নয়, রক্তই আছে এবং এর রং লাল। আর তখনই রহিম শেখ বেদনা ও ক্ষোভের সাথে উচ্চারণ করে -
“লাল না নীল, সাদা না কালো, এই অন্ধকারে তা কি করে মালুম করবো ।
আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধবাজদের প্রতি রহিম শেখের ক্ষোভ যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি লেখকের যুদ্ধবিরোধী জীবনদর্শনও উন্মোচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা ১১ : যে ফিরে যাবে সে আমি হব না, সে হবে বিশ্বাস ঘাতক।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু প্রগতিশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত । ইব্রাহিম কার্দি জোহরা বেগমকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করে ।
মুসলিম বাহিনীর কাছে মারাঠা বাহিনীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। এই অবস্থায় মারাঠা পক্ষে যুদ্ধেরত স্বামী ইব্রাহিম কার্দিকে জোহরা বেগম নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চাইলে কার্দি আলোচ্য উচ্চারণ করে ।
রাতের গভীর অন্ধকারে জোহরা বেগম মারাঠা শিবিরে এসেছে স্বামী ইব্রাহিম কার্দির সঙ্গে দেখা করতে । পর দিন শুরু হবে মারাঠা ও মুসলিম বাহিনীর মধে ঘোর যুদ্ধ। সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী এবং তাদের রণ-কৌশলের কাছে মারাঠা শক্তির পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। তাই জোহরা স্বামী ইব্রাহিম কার্দিকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় । এই উদ্দেশ্য নিয়েই সে মারাঠা শিবিরে এসেছে । কিন্তু কার্দি মারাঠা পক্ষ ত্যাগ করে স্ত্রীর সঙ্গে যেতে চায় না । কেননা, তাহলে মারাঠাদের কাছে বেঈমানী করা হবে । এই মারাঠারাই দুর্দিনে তাকে আশ্রয় দিয়ে ছিল । তাই শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর আহবানে সারা দিয়ে ফিরে যেতে পারে না । এক সময়ের আশ্রয় দাতাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। আর এ কারণেই স্ত্রীর আহবানের জাবাবে বলেছে-
‘যে ফিরে যাবে সে আমি হব না, সে হবে বিশ্বাস ঘাতক।”
বস্তুত, এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকার ইব্রাহিম কার্দির দৃঢ় চরিত্রের স্বরূপটিকেই উন্মোচন করার প্রয়াস পেয়েছেন। আর কার্দির চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্যই নাটকের ট্রাজিক পরিণামকে অনিবার্য করে তুলেছে।
ব্যাখ্যা ১২ : অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না।
উত্তর: ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু বাংলাদেশের প্রগতিশীল নাট্যকার মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ (১৯৬২) নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি নাটকের অন্যতম চরিত্র হিরণবালার। জোহরা বেগম সম্পর্কে ইব্রাহিম কার্দিকে উদ্দেশ্য করে সে এই উক্তি করে।
ইব্রাহিম কার্দির কথা হচ্ছিল হিরণবালার সাথে। বিষয় জোহরা বেগম। মুসলিম-মারাঠা যুদ্ধে স্বজাতির বিরুদ্ধ পক্ষে কার্দির যোগদানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে বিরোধ শুরু হয়েছে তা আদর্শগত বিরোধ। কৃতজ্ঞতাবোধ তাড়িত হয়ে কার্দি যোগ দিয়েছেন তার স্বজাতির শত্রু মারাঠা পক্ষে। কিন্তু জোহরা তা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারে নি। কারণ এই মারাঠারাই তার পিতার হত্যাকারী। অথচ তার স্বামী কার্দি আজ সে পক্ষেরই একজন শক্তিশালী সেনাপতি। অনেক চেষ্টা করেও সে কার্দিকে স্বজাতির পক্ষে আনতে পারেনি। তাই সে কার্দিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে যে, সে বিশ্বাসঘাতক, স্বধর্মদ্রোহী, পরান্নভোগী, হীনচেতা, কাপুরুষ। কিন্তু হিরণবালার মতে জোহরার এই কথা তার অন্তরের কথা নয়। বরং কার্দির প্রতি গভীর ভালবাসা আছে বলেই সে মুখে এরকম নিন্দা বাক্য উচ্চারণ করতে পেরেছে। আর এ বিষয়কে লক্ষ করেই হিরণবালা কার্দিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে-
“অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারত না।”
মোটকথা, হিরণবালার মুখে দিয়ে উল্লিখিত উচ্চারণের মধ্যদিয়ে নাট্যকার কার্দির প্রতি জোহরার প্রেমের গভীরতাকেই উন্মোচন করার প্রয়াস পেয়েছেন।
******************************
ড. এ. আাই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910