
HSC 2025 Bangla 2nd Paper Question and Full Solution – Dinajpur Board | বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন ও সমাধান
HSC 2025 Bangla 2nd Paper Question and Full Solution – Dinajpur Board | বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন ও সমাধান
ক বিভাগ-ব্যাকরণ
মান-৩০
১। ক) ব-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদারহণসহ লেখ।
উত্তর: নিচে ব-ফলা উচ্চারণের ৫টি নিয়ম আলোচনা করা হলো:
১। শব্দের আদিতে যুক্ত ব্যঞ্জনের ব-ফলা সাধারণত উচ্চারিত হয় না। যেমন : স্বদেশ (শদেশ্), ত্বক (তক্), ধ্বনি ( ধোনি) ইত্যাদি।
২। শব্দের মধ্যে বা অন্তে সংযুক্ত ব্যঞ্জনের সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত থাকলে ঐ ব-ফলা উচ্চারিত হয় না। যেমন : সান্ত্বনা (শান্তোনা), উচ্ছ্বাস
(উচ্ছাশ্ ), উজ্জ্বল (উজ্জল্) ইত্যাদি।
৩। শব্দের মধ্যে বা অন্তে ব-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে ব্যঞ্জনটির উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন : বিশ্বাস ( বিশ্শাশ্ ), বিদ্বান ( বিদ্দান্ ), রাজত্ব
(রাজত্তো), অশ্ব (অশ্শো)।।
৪। উৎ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দের ত্ (দ)-এর সঙ্গে যুক্ত ব-ফলার ব অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়। যেমন : উদ্বোধন (উদ্বোধোন্), উদ্বাস্তু
(উদ্বাস্তু), উদ্বাহু ( উদ্বাহু ), উদ্বেগ ( উদ্বেগ্ ) ইত্যাদি।
৫। বাংলা শব্দে সন্ধির ফলে ক থেকে আগত গ-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে, ঐ ব-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন : দিগ্বিদিক (দিগবিদিক), দিগ্বিজয় (দিগ্বিজয়্), ঋগ্বেদ (রিগ্বেদ্), দিগ্বলয় (দিগ্বলয়্) ইত্যাদি।
৬। ম-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে, সে ব উচ্চারিত হয়। যেমন : লম্বা (লম্বা), সম্বল (শম্বল্/শম্বোল্), শম্বুক ( শোম্বুক্ )।
অথবা, খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের উচ্চারণ লেখ:
|
প্রদত্ত শব্দ |
শুদ্ধ উচ্চারণ |
|
আশ্চর্য |
আশ্চোর্জো |
|
মেঘমালা |
মেঘোমালা |
|
মতি |
মোতি |
|
রক্ত |
রক্তো |
|
ব্রাহ্মণ |
ব্রাম্mhon/ব্রাম্হোন্ |
|
বিশ্বাস |
বিশ্শাশ্ |
|
কল্যাণ |
কোল্ল্যান্ |
|
নবান্ন |
নবান্নো। |
২। ক) বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে তৎসম শব্দের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর : নিচে বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের তৎসম শব্দের ৫টি নিয়ম আলোচনা করা হলো:
i. তৎসম অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অবিকৃত সংস্কৃত শব্দের বানান যথাযথ ও অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ এসব শব্দের বানান ও ব্যাকরণগত প্রকরণ ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট রয়েছে। যেমন: চন্দ্র, হস্তী, পক্ষী ইত্যাদি।
ii. যে সমস্ত তৎসম শব্দে ই, ঈ বা উ, ঊ উভয়ই শুদ্ধ , সে সব শব্দে কেবল ই বা উ এবং তার কার চিহ্ন ব্যবহৃত হবে। যেমন - কিংবদন্তি, ভঙ্গি, শ্রেণি, উর্ণা, উষা ইত্যাদি।
iii. সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে। যেমন- অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর। তবে অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা , গঙ্গা প্রভৃতি সন্ধিবদ্ধ নয় বলে ঙ স্থানে ং হবে না।
iv. সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোতে হ্রস্ব ই-কার হবে। যেমন:
গুণী- গুণিজন, প্রাণী- প্রাণিবিদ্যা ইত্যাদি।
v. রেফ ( র্ম ) এর পর ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব হবে না। যেমন : কর্তা, কর্ম, মর্ম ইত্যাদি।
vi. শব্দের শেষে (ঃ) বিসর্গ ব্যবহৃত হবে না। যেমন : মূলত, কার্যত, বস্তুত ইত্যাদি।
অথবা, খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখ:
|
অশুদ্ধ বানান |
শুদ্ধ বানান |
|
বিদ্রূপ |
বিদ্রুপ |
|
আগন্তক |
আগন্তুক |
|
ইতিপূর্বে |
ইতঃপূর্বে |
|
মনিষী |
মনীষী |
|
আইনজীবি |
আইনজীবী |
|
পরিষ্কার |
পরিষ্কার; |
|
মূহুর্ত |
মুহূর্ত |
|
মন্ত্রীসভা |
মন্ত্রিসভা। |
৩। ক) আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা কর।
উত্তর: যে সমস্ত শব্দ দ্বারা মানুষের মনের ভাব বা আবেগ প্রকাশ পায় সে সমস্ত শব্দকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ্! কী চমৎকার ফুল। এখানে ‘বাহ্’ শব্দটির কোনো অর্থ নেই, কিন্তু এটি মনের গভীর আবেগকে প্রকাশ করেছে। প্রথাগত ব্যাকরণে এগুলোকে অনন্বয়ী, মনোভাবাত্মক বা অন্তর্ভাবাত্মক অব্যয় বলা হয়ে থাকে।
মনের আবেগ প্রকাশের ধরণ অনুযায়ী আবেগ শব্দকে নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারে ভাগ করা হয়ে থাকে। নিচে এগের আলোচনা করা হলো :
(ক) সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা সিদ্ধান্ত, অনুমোদন, সম্মতি ইত্যাদি নির্দেশ করা হয়। যেমন: না, তোমার সাথে আর পারা গেলো না।
(খ) প্রশংসাবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা কোনো কিছুর প্রশংসা প্রকাশ পায়। যেমন: বাঃ! কী চমৎকার কথা আপনি বললেন।
(গ) বিরক্তিবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা বিরক্তি, ঘৃণা বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়। যেমন: ছিঃ ছিঃ ! এতো নীচ আচরণ আপনি করতে পারেন।
(ঘ) ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা ভয় বা যন্ত্রণা প্রকাশ পায়। যেমন: আঃ! কী বিপদেই না পরলাম।
(ঙ) বিস্ময়বাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা বিস্ময় বা আশ্চর্যের ভাব প্রকাশ পায়। যেমন: আরে, এমন সুন্দর ফুল তো আগে দেখি নি!
(চ) করুণাবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা করুণ বা সহানুভূতি প্রকাশ পায়। হায়! হায়! এখন আমাদের কী উপায় হবে?
(ছ) সম্বোধনবাচক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ দ্বারা বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা বা মাধুর্য প্রকাশ করা হয়। যেমন: যা শয়তান! খালি আমার সাথে সবসময় দুষ্টুমি, না!
(জ) আলঙ্কারিক আবেগ শব্দ: এ জাতীয় আবেগ শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন ঘটায় না। বরং বাক্যের অর্থের কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি সৃষ্টি করে।
যেমন: যাক গে, অতীত নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই। বাপ্ রে বাপ ! তুই এত হাসাতে পারিস।
অথবা, খ) নিম্নরেখ শব্দগুলোর ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ কর (যে কোনো পাঁচটি):
i) আমার ময়না কথা কয় না।
ii) বাড়ির সকলে তো রাগিয়া আগুন।
iii) একদিন শোনা গেল সে মর-মর।
iv) আরে! তুমি এখন এলে?
v) সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল।
vi) শকুনরা উড়ে এসে বসছে পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়।
vii) মাসি বলে, এত রাতে?
viii) আহা! বৃষ্টির ঝমঝম বোল।
পাঁচটি ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করা হলো:
i) বিশেষ্য
ii) বিশেষণ
iii) ক্রিয়া
iv) আবেগ
v) বিশেষণ
vi) অসমাপিকা ক্রিয়া
vii) বিশেষণ
viii) আবেগ।
৪। ক) উপসর্গ কাকে বলে? যে কোনো চারটি বিদেশি উপসর্গের সাহায্যে একটি করে শব্দ গঠন কর।
উত্তর: উপসর্গ: যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে। যেমন: অ+কাজ = অকাজ, সু+দিন= সুদিন, দূর+দিন দুর্দিন ইত্যাদি।
৪টি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
উপসর্গ+মূলশব্দ+উপসর্গ সাধিত শব্দ
১. আম-জনতা-আমজনতা
২. গর+হাজির গরহাজির
৩. হেড মাস্টার=হেডমাস্টার
৪. বে+দখল বেদখল
অথবা, খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):
|
প্রদত্ত শব্দ |
ব্যাসবাক্য |
সমাসের নাম |
|
গজানন |
গজের আননের ন্যায় আনন যার |
বহুব্রীহি |
|
ভাষান্তর |
অন্য ভাষা |
নিত্য |
|
বাগদত্তা |
বাক্ দ্বারা দত্তা |
তৃতীয়া তৎপুরুষ |
|
লালচে |
ঈষৎ লাল |
অব্যয়ীভাব |
|
অরুণরাঙা |
অরুণের ন্যায় রাঙা |
উপমান কর্মধারয় |
|
আত্মীয়স্বজন |
আত্মীয় ও স্বজন |
দ্বন্দ্ব |
|
জীবনতরী |
জীবন রূপ তরী |
রূপক কর্মধারায় |
|
প্রশান্তি |
প্রকৃষ্ট যে শান্তি |
প্রাদি |
৫। ক) বাক্য কাকে বলে? অর্থানুসারে বাক্যের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা কর।
উত্তর: অর্থ অনুযায়ী বাংলা বাক্যকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. নির্দেশক বা নির্দেশাত্মক বাক্য,
২. প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাক্মক বাক্য,
৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য,
৪. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য,
৫. কার্যকারণাত্মক বাক্য,
৬. সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যেতক বাক্য,
৭. বিস্ময়সূচক বাক্য।
নিচে উদাহরণসহ এদের পরিচয় দেওয়া হলো:
১. নিদের্শক বা নির্দেশাত্মক বাক্য: এই বাক্যকে নির্দেশমূলক নির্দেশসূচক, নির্দেশাত্মক বিবৃতিমূলক প্রভৃতি নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে । যে বাক্যে কোন বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃতি বা নির্দেশ করা হয়ে থাকে , তাকে নির্দেশাত্মক বাক্য বলে। যেমন: তাসনীম কবিতা পছন্দ করে। আলভী মিথ্যা কথা বলে না।
নিচে উদাহরণসহ এদের পরিচয় দেওয়া হলো:
ক. অস্তিবাচক বাক্য ও খ. নেতিবাচক বাক্য
এদের পরিচয় দেয়া হলো:
ক. অস্তিবাচক বাক্য: যে বাক্যে কোন ঘটনা ভাব বা বক্তব্যে অস্তিত্ব বা হাঁসূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বলে। যেমন: তিথি রবীন্দ্রসঙ্গীত পছন্দ করে।
খ. নেতিবাচক বাক্য: যে বাক্যে কোন ঘটনায় কাজে বা ভাবে অস্বীকৃতি অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায়, তাকে নেতিবাচক বাক্য বলে।
যেমন: তিথি রবীন্দ্রসঙ্গীত অপছন্দ করে না। তাসনীম মানুষকে ঘৃণা করে না।
২. প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য: এই বাক্যকে প্রশ্নমূলক, প্রশ্নসূচক জিজ্ঞাসাত্মক বাক্যও বলা হয়ে থাকে। যে বাক্যে কোন কিছু জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নসূচক অর্থ প্রকাশ পায় তাকে প্রশ্নবোধক বাক্য বলে। যেমন: তুমি কোন ক্লাসে পড়? কোন ফুল তোমার পছন্দ?
৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য : এই বাক্যকে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাবাচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়ে থাকে। যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। যেমন:
আদেশ: কাছে এস।
উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন।
নিষেধ:অপরের নিন্দা করো না।
প্রস্তাব: চল, খেলা দেখে আসি।
৪. প্রার্থনাসূচক বাক্য: এই বাক্যকে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাক্যও বলা হয়ে থাকে। যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয় তাকে প্রার্থনাসূচক বাক্য বলা হয়ে থাকে। যেমন:
আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে।
৫. কার্যকারণাত্মক বাক্য: এই বাক্যকে শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য বলা হয়ে থাকে। যদি, যদ্যপি প্রভৃতি অব্যয়যোগে যে বাক্য গঠিত এবং যাতে কারণ, নিয়ম , শর্ত, স্বীকৃতি ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলা হয়ে থাকে। যেমন:
কষ্ট না করেলে কেষ্ট মেলে না। (শর্ত)
মন দিয়ে পড়াশোনা না করলে পাশ করা যায় না।(নিয়ম)
৬. সন্দেহদ্যোতক বাক্য: এই বাক্যের অন্য নাম, সন্দেহাত্মক, সংশয়সূচক বাক্য। যে বাক্যে বক্তব্য বিষয় সম্পর্কে সন্দেহ, সংশয়, সম্ভাবনা, অনুমান, অনিশ্চয়া ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে সন্দেহদ্যোতক বাক্য বলা হয়ে থাকে। যেমন:
বোধ হয়, তাসনীম আজ আসবে।
সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল আসবে।
৭. বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়, তাকে বিস্ময়বোধক বাক্য বলা হয়। যেমন:
বিস্ময়: কী ভয়ংকর কথা!
হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে আমি বনফুল গো!
ঘৃণা: ছি ছি! এমন বাজে আচরণ করলে কী করে?
অথবা, খ) বন্ধনীর নির্দেশ অনুসারে যে কোনো পাঁচটি বাক্য রূপান্তর কর:
|
প্রদত্ত বাক্য |
বাক্যান্তর |
|
i) এখানে আমি বহুদিন আগে এসেছি। (নেতিবাচক) |
এখানে আমার আসা অল্পদিনের নয়। |
|
ii) জানিতাম না দেনাপাওনা কী স্থির হইল। (অস্তিবাচক) |
দেনাপাওনার বিষয় আমার অজানা ছিল। |
|
iii) কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। (জটিল) |
যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই। |
|
iv) প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষের সে ধর্ম। (সরল) |
প্রকৃতির ধর্মই মানুষের ধর্ম। |
|
v) মানুষটা সমস্ত রাত খেতে পাবে না। (প্রশ্নবোধক) |
মানুষটা কি সমস্ত রাত খেতে পাবে? |
|
vi) বাংলাদেশের চিরস্থায়িত্ব কামনা করি। (ইচ্ছাসূচক) |
বাংলাদেশ চিরস্থায়ী হোক। |
|
vii) সংবাদটি পড়ে মর্মাহত হলাম। (আবেগসূচক) |
আহা! সংবাদটি পড়ে কী মর্মাহত হলাম। |
|
viii) তোমাকে এই খাতায় লিখতে হবে। (অনুজ্ঞাবাচক) |
তুমি এই খাতায় লেখো। |
৬। ক) যে কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখ:
|
অশুদ্ধ বাক্য |
শুদ্ধ বাক্য |
|
i) তার সাথে আমার সখ্যতা আছে। |
তার সাথে আমার সখ্য আছে। |
|
ii) আপনার কি মনে হয় না, বিধি লঙ্ঘন হয়েছে? |
আপনার কি মনে হয় না, বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে? |
|
iii) আমি স্বরস্বতী কোলে গজাননের ছোট ভাইটি। |
আমি অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি। |
|
iv) সবার সু-স্বাস্থ্য কামনা করছি। |
সবার সুস্থতা কামনা করছি। |
|
v) কারো ফাগুন মাস, কারো সর্বনাশ। |
কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। |
|
vi) অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা। |
অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা। |
|
vii) সে কুপুরুষের মতো কথা বলছে। |
সে কাপুরুষের মতো কথা বলছে। |
|
viii) মিলিটারি এখন যাবতীয় গাড়িগুলো থামোচ্ছে। |
মিলিটারি এখন যাবতীয় গাড়ি থামাচ্ছে। |
অথবা, খ) অনুচ্ছেদটি শুদ্ধ করে লেখ:
শহরের বাজারে তরিতরকারী ফলমূলের দাম অতি চড়া। গা থেকে কিনে বাজারে গিয়ে বেঁচে আসে তারা, কিছু রোজগার হবে। একা মাসির ভর হয় না সালতি বেয়ে অতদূর যেতে, যাওয়া-আসাও একার দাড়া হবে না তার।
শুদ্ধ অনুচ্ছেদ:
শহরের বাজারে তরিতরকারি ফলমূলের দাম চড়া। গাঁ থেকে কিনে যদি বাজারে গিয়ে বেচে আসে তারা, কিছু রোজগার হবে। একা মাসির ভরসা হয় না সালতি বেয়ে অতদূর যেতে, যাওয়া-আসাও একার দ্বারা হবে না তার।
খ বিভাগ নির্মিতি
৭। যে কোনো দশটি শব্দের পারিভাষিক রূপ লেখ:
|
প্রদত্ত শব্দ |
পারিভাষিক রূপ |
|
Auction |
নিলাম |
|
Bibliography |
গ্রন্থপঞ্জি |
|
White-paper |
শ্বেতপত্র |
|
Ethics |
নীতিবিদ্যা |
|
Fascism |
ফ্যাসিবাদ |
|
Interim |
অন্তর্বর্তীকালীন |
|
Pay-bill |
বেতন-পত্র |
|
Octave |
অষ্টক |
|
Surplus |
উদ্বৃত্ত |
|
Manpower |
জনশক্তি |
|
Reform |
সংস্কার |
|
Delta |
ব-দ্বীপ |
|
Hoarder |
মজুতদার |
|
Cargo |
জাহাজি মাল |
|
Thesis |
অভিসন্দর্ভ |
অথবা, খ) বাংলায় অনুবাদ কর:
Patriotism is love for one's country. It is a powerful sentiment and wholly unselfish and noble. A patriot can sacrifice even his own life for the welfare of his country. It is an idealism that gives courage and strength, but false patriotism makes a man narrow-minded and selfish.
বঙ্গানুবাদ:
দেশপ্রেম হলো নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা। এটি একটি শক্তিশালী অনুভূতি, যা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ও মহৎ। একজন দেশপ্রেমিক তার দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে পারে। এটি এমন একটি আদর্শ যা সাহস ও শক্তি যোগায়, তবে মিথ্যা দেশপ্রেম মানুষকে সংকীর্ণমনা ও স্বার্থপর করে তোলে।
৮। ক) কলেজের শেষ দিনের অনুভূতি বর্ণনা করে একটি দিনলিপি লেখ।
উত্তর: নিচে কলেজের শেষ দিনের অনুভূতি বর্ণনা করে একটি দিনলিপি লেখা হলো:
তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৫
স্থান: ঢাকা, রাত : ১০.৩০মি.
আজ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। কলেজের শেষ দিন! সকাল থেকেই মনটা অদ্ভুত এক আবেগে আচ্ছন্ন ছিল। কলেজে পৌঁছে প্রতিটি ক্লাসরুম, বারান্দা, ল্যাব, আর ক্যাম্পাসের কোণায় কোণায় চোখ রাখছিলাম যেন সবকিছুকে হৃদয়ে গেঁথে নিতে চাই।
বন্ধুদের সঙ্গে আলাপচারিতা, ছবিতোলা, স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের পরিবেশ ছিল। কেউ হেসেছে, কেউ চোখ মুছেছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমরা একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। আজ সেই সঙ্গই যেন শেষের পথে। শিক্ষকদের বিদায়ী বাণী হৃদয় ছুঁয়ে গেল। প্রিয় ইংরেজি স্যার বললেন, “এই কলেজ জীবনের স্মৃতিই ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।”
শেষ ক্লাসে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে ছবি তুললাম। কেউ কেউ শিক্ষককে ফুল ও ছোট উপহার দিল। আমি স্যারের হাতে একটি কলম তুলে দিই, স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। তিনি স্নেহভরে মাথায় হাত রেখে বললেন, “ভালো থেকো, বড় হও।” চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি।
আমার বুকের ভেতরে যেন হাহাকার করছে। জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হলো, কিন্তু সামনে আরও বিস্তৃত জীবন অপেক্ষা করছে। সেই জীবনেও হয়তো নতুন মানুষ আসবে, কিন্তু এই কলেজ, এই বন্ধু, এই শিক্ষকদের স্মৃতি কোনোদিন ভুলতে পারব না।
আজকের এই দিনটি চিরকাল আমার স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করে থাকবে। বিদায়ের এই অনুভূতি মধুর হলেও বেদনাময়।
অথবা, খ) বন্যার পরে তোমার এলাকার ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।
উত্তর:
শিরোনাম: ফেনি জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা ফেনিতে সাম্প্রতিক বন্যায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে এলাকাবাসী। অতি ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে মুহুরী, সিলোনিয়া ও খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপরে উঠে গেছে। এতে জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম ও সদর উপজেলার বহু গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য সড়ক, বাঁধ ও ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষকদের ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে আমন ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্র পরিবারগুলো। অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্কুল-কলেজ বা উঁচু জায়গায়। প্রশাসন থেকে কিছু শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে আরও ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠানো প্রয়োজন। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ফেনির মানুষ প্রতিবছর এই দুর্ভোগের শিকার হতে থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম : আদিলা হাসান
শিরোনাম : ‘ফেনি জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : ফেনি, ১০/০৭/২০২৬ খ্রি.।
৯। ক) এইচএসসি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জানিয়ে বন্ধুকে একটি বৈদ্যুতিন চিঠি লেখ।
উত্তর: www.onlinereadingroombd.com
অথবা, খ) এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে পৌরসভার মেয়রের নিকট একটি আবেদনপত্র লেখ।
উত্তর: নিচের লিংকে-
www.onlinereadingroombd.com
১০। ক) সারাংশ লেখ:
অনেকের ধারণা এই যে, মহৎব্যক্তি শুধু উচ্চবংশেই জনন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন, নিচুকূলে মহতের জন্ম হয় না। কিন্তু প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করিলেই দেখা যায় মানুষের ধারণা অতিশয় ভ্রমাত্মক। পদ্মফুল ফুলের। রাজা। রূপে গন্ধে সে অতুলনীয়। কিন্তু ইহার জন্ম হয় পানের অযোগ্য পানিভরা এঁদো পুকুরে। পক্ষান্তরে বটবৃক্ষ বৃক্ষের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বটে, অথচ বহু বৃক্ষের ফল আমরা আস্বাদন করি, এত খ্যাতনামা যে বটগাছ তার ফল আমাদের অখাদ্য।
উত্তর: মহৎ ব্যক্তির জন্ম কেবল উচ্চবংশে হয়—এই ধারণা ভ্রান্ত। প্রকৃতির মতোই নিচু পরিবেশেও মহত্ত্বের বিকাশ ঘটে। যেমন—পদ্মফুল এঁদো জলে জন্ম নিয়ে অতুল সুন্দর হয়, অথচ বটগাছ মর্যাদাপূর্ণ হলেও তার ফল অখাদ্য।
অথবা, খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।
উত্তর: নিচের লিংকে-
১১। ক) খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: নিচে খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার
প্রমিত: আসসালামু আলাইকুম, শীতল। কী খবর? এত চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
শীতল: ওয়ালইকুম সালাম। মনাটা খুব খারাপ।
প্রমিত: কেন?
শীতল: আর বলিস না ভাই। খবরের কাগজে পড়লাম—ফলের রসে কেমিক্যাল, দুধে ডিটারজেন্ট, এমনকি শিশুখাদ্যেও ভেজাল! ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।
প্রমিত: হ্যাঁ রে, এ এক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ আজ খাবারে নয়, বিষ গ্রহণ করছে না জেনেই।
শীতল: শুধু ব্যবসায়িক লাভের আশায় কীভাবে মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? একটা জাতির স্বাস্থ্য এভাবে ধ্বংস হতে বসেছে!
প্রমিত: একদম ঠিক বলেছিস। অথচ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশুদ্ধ খাদ্য পাওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
শীতল: শুনলাম, বাজারে কৃত্রিম ডিম, নকল ঘি, এমনকি রাসায়নিক মিশ্রিত সবজিও বিক্রি হচ্ছে। এসব খেয়ে তো ক্যানসার, কিডনি বিকলসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
প্রমিত: আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন আছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।
শীতল: আমি মনে করি, সরকারের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ মানুষেরও সচেতন হতে হবে। ভেজাল চেনার উপায় জানতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।
প্রমিত: একমত। যেমন, ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, রাসায়নিক মুক্ত কৃষিপণ্যের দিকে ঝুঁকতে পারি।
শীতল: আর মিডিয়া ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। ছোটদের থেকেই ভেজালবিরোধী শিক্ষার সূচনা দরকার।
প্রমিত: খুব ভালো বলেছিস। আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব।
শীতল: তাহলে চল, আমরা নিজেরা ভেজালবিরোধী সচেতনতা ক্যাম্পেইনে অংশ নিই। অন্যদেরও জানাই—“বিশুদ্ধ খাবার, সুস্থ জীবন” আমাদের অধিকার।
প্রমিত: একদম ঠিক! ছোট পদক্ষেপ থেকেই বড় পরিবর্তনের শুরু হয়। চল, আজ থেকেই শুরু করি।
অথবা, খ) "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই” শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
উত্তর: নিচে "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই” শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখা হলো:
রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই
সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি উঠেনি। শহরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষার্থী। হাতে ছোট্ট একটি ব্যানার— “রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই”। সে ও তার বন্ধুরা আজ বিনা মূল্যে রক্তদানের আয়োজন করেছে।
এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তির ছুটে আসা। চেহারায় গভীর উৎকণ্ঠা।
— “আপনারা কি রক্ত দিচ্ছেন?”
— “জি ভাই, বলুন কী সমস্যা?”
লোকটি কাঁপা কণ্ঠে জানাল, তার ৮ বছরের মেয়ে রিয়া হাসপাতালে ভর্তি, হঠাৎ করেই অপারেশন জরুরি হয়ে পড়েছে। বি-পজিটিভ রক্ত না পেলে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু কোথাও মিলছে না।
নাহিদ ব্যাগ খুলে নিজের রক্ত গ্রুপ চেক করল— বি-পজিটিভ! এক মুহূর্ত দেরি না করে সে লোকটির সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে গেল।
রক্ত দেওয়ার পর ক্লান্ত হলেও নাহিদের মুখে শান্তির হাসি। ছোট্ট রিয়া বাঁচল। মেয়েটির বাবা অশ্রুসজল চোখে বলল, “তুমি শুধু রক্ত দাওনি ভাই, আমার মেয়ের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছো।”
নাহিদের মনে তখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। সে বুঝল, সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে মানবিক রূপ হলো রক্তদান। মানুষ মানুষের জন্য—এ সত্য আজ বাস্তবে রূপ নিল।
সন্ধ্যাবেলায় ক্যাম্পে ফিরে নাহিদ তার বন্ধুদের বলল,
— “আমরা শুধু রক্ত দিচ্ছি না, আমরা জীবন বাঁচাচ্ছি।”
সেদিন থেকেই তাদের রক্তদাতা সংগঠনের নাম হয়: “জীবনসাথী”।
ছোট একটি উদ্যোগ কীভাবে একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে—এটাই ছিল নাহিদদের পথচলার প্রেরণা।
১২। যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ লেখ:
ক) অধ্যবসায়
উত্তর: নিচের লিংকে-
www.onlinereadingroombd.com
খ) একুশ আমার অহংকার
উত্তর: নিচের লিংকে-
www.onlinereadingroombd.com
গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প
উত্তর: নিচের লিংকে-
www.onlinereadingroombd.com
স) মানব কল্যাণে বিজ্ঞান
উত্তর: নিচের লিংকে-
www.onlinereadingroombd.com
ঙ) যুদ্ধ ও বর্তমান বিশ্ব।
শিরোনাম: যুদ্ধ ও বর্তমান বিশ্ব
ভূমিকা:
যুদ্ধ—একটি ভয়ঙ্কর শব্দ, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে ধ্বংস, কান্না, শোক ও হাহাকার। মানবসভ্যতার ইতিহাস যুদ্ধের রক্তাক্ত গল্পে পূর্ণ। প্রাচীন যুগে বীরত্ব ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে যুদ্ধকে দেখা হলেও আধুনিক সভ্য সমাজে যুদ্ধ মানে মানবতার পরাজয়। বর্তমান বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ শুধু একটি দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সীমানা বিরোধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত বিরোধের ভয়ঙ্কর পরিণতি।
যুদ্ধের প্রকৃতি ও পরিবর্তন:
আধুনিক যুগের যুদ্ধ আগের মতো শুধুই অস্ত্রের লড়াই নয়। এখন যুদ্ধ মানে সাইবার আক্রমণ, বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার, মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও তথ্যযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবসভ্যতা পরমাণু বোমার ধ্বংসাত্মক শক্তি প্রত্যক্ষ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র মজুদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ফলে যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধের উদাহরণ:
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের একাধিক নজির রয়েছে। যেমন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, যা শুধু ওই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, শরণার্থী সমস্যা—সবকিছু এই যুদ্ধের ফল। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরুত্থান—এসব ঘটনা বিশ্বশান্তির প্রতি ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের পরিণতি:
যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান নয়। এটি মানুষের জীবনে আনে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট। শিশুরা হারায় তাদের ভবিষ্যৎ, মা হারায় সন্তান, মানুষ হারায় ঘর-বাড়ি। পরিবেশের ওপরেও যুদ্ধের প্রভাব ভয়াবহ। পরমাণু বা রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার মাটি, পানি ও বায়ুকে বিষাক্ত করে তোলে, যার প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর।
যুদ্ধ আর্থিকভাবেও বিপর্যয় সৃষ্টি করে। উন্নয়ন থমকে যায়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় কমে যায়। ফলে সমাজে বৈষম্য ও অসন্তোষ বাড়ে। অনেক সময় যুদ্ধ একটি দেশকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেয়।
যুদ্ধের মূল কারণ:
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাতের পেছনে রয়েছে নানা কারণ। তার মধ্যে কিছু প্রধান কারণ হলো—
১. ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার,
২. ধর্মীয় বা জাতিগত বিভাজন,
৩. অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ,
৪. ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ,
৫. বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ।
অনেক সময় রাজনীতিবিদ ও ক্ষমতালোভীরা যুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। জনগণের কষ্ট তাদের বিবেচনায় থাকে না।
বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধের ভূমিকা:
যুদ্ধ বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। জাতিসংঘ, ন্যাটো, জি-৭, ব্রিকস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ যুদ্ধ প্রতিরোধে বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও জোট রাজনীতি অনেক সময় যুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ কখনো কখনো যুদ্ধ থামানোর পরিবর্তে উসকে দেয়।
শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ:
যুদ্ধ প্রতিরোধে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ, যুদ্ধবিরতি আলোচনার আয়োজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষা বিস্তারের মতো কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগগুলো তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন দেশগুলোর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকে।
বিকল্প হিসেবে শান্তিপূর্ণ সমাধান:
যুদ্ধের বিকল্প রয়েছে—তা হলো সংলাপ, কূটনীতি, আলোচনা ও সহযোগিতা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও অর্থনৈতিক সহমর্মিতার মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান রক্তপাত ছাড়াই সম্ভব হয়েছে সংলাপের মাধ্যমে।
তরুণদের ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে তরুণ সমাজের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারা শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। অহিংস আন্দোলন, মানবিক সচেতনতা ও সহনশীল মনোভাব গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি যুদ্ধবিহীন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখাতে পারে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ:
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৭১ সালে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পার করেছে। তাই এ জাতি যুদ্ধের ভয়াবহতা জানে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
উপসংহার:
যুদ্ধ কোনোদিনও শান্তির পথ হতে পারে না। এটি কেবল ধ্বংস, দুঃখ ও ঘৃণার জন্ম দেয়। বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। যুদ্ধ নয়—শান্তিই হোক আগামী পৃথিবীর মূলনীতি।
প্রশ্নটি সমাধান করেছেন:
প্রফেসর ড. এ. আই. এম. মুসা
বাংলা বিভাগ
ভূতপূর্ব : শিক্ষক, রংপুর সরকারি কলেজ, রংপুর
সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর
সরকারি পিসি কলেজ, বাগেরহাট
এবং CEO, www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910