
NTRCA College: প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ
প্রশ্ন: প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ আলোচনা কর।
উত্তর: ভাষাতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপে একদল লোক বাস করতেন। পরবর্তী কালে সংখ্যাবৃদ্ধি ও স্থানভাবের কারণে দলবদ্ধ হয়ে তাঁরা ইউরোপে ও এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তাঁরা যে ভাষায় কথা বলতেন তার নাম দেয়া হয়েছে ‘ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার দুটি প্রধান শাখা ছিল । এর একটির নাম হলো ‘কেন্তুম’ শাখা এবং অন্যটির নাম হলো ‘শতম’ শাখা। এই শাখাগুলোর বিভিন্ন উপশাখাও ছিল। এগুলোকে নিচের চিত্রের সাহায্যে দেখানো যেতে পারে।

উল্লিখিত শতম শাখার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষাবংশ হলো ইন্দো-ইরানীয় শাখা। ইন্দো-ইরানীয় শাখায় আবার দুটি প্রধান উপশাখা রয়েছে। এর একটি হলো-ইরানি শাখা এবং অন্যটি হলো ভারতীয় শাখা। ভারতীয় শাখায় ভাষা আর্য ভাষা নামে পরিচিত। কালের বিবর্তন ও ভাষা- বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ রেখে ভারতীয় আর্য ভাষাকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এই স্তর তিনটি হলো নিম্নরূপ:
|
ক্রম |
ভাষাস্তরের নাম |
সময়কাল |
|
০১ |
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা |
খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ পর্যন্ত |
|
০২ |
মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা |
খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ৪৫০ অব্দ পর্যন্ত |
|
০৩ |
নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা |
৪৫০ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত |
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার কতগুলো লক্ষণ বা সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ড. সুকুমার সেন তাঁর ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার মোট নয়টি লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এই লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
১। [হ্রস্ব ও দীর্ঘ ঋ,(৯),এ,ঐ] সমেত স্বরর্বণ এবং তিন স-কার সমেত ব্যঞ্জন বর্ণগুলোর যথাযথ ব্যবহার। স্বরবর্ণের গুণ-বৃদ্ধি-সম্প্রসারণ । সন্ধি। বৈদিক স্বর।
২। বিবিধ যুক্ত ব্যঞ্জনের ব্যবহার। যেমন: [ক্র,ক্ন,ক্ষ্ম,র্দ্ধ,স্থ্য,ষ্ট্র, র্ত্র্য,ৎস্ন, ষ্ট,ত্ন,ম্ন্য]
৩। শব্দরূপে বৈচিত্র্য। তিন বচন, সম্বোধন ছাড়া সাত কারক,তিন লিঙ্গ। লিঙ্গ ও অন্ত্যধ্বনি অনুসারে শব্দের রূপভেদ।
৪। ধাতুরূপে বিপুল বৈচিত্র্য। তিন পুরুষ,দুই পদ ( পরস্মেপদ ও আত্মনেপদ),দুই বাচ্য ( কর্তা,কর্ম-ভাব), পাঁচ কলা, পাঁচ ভাব,বহু বিশেষণ ও অসমাপিকা।
৫। উপসর্গের স্বাধীন ব্যবহার।
৬। সমাসের বিচিত্র ও বহুল প্রয়োগ।
৭। বাক্যের পদবিন্যাসে নির্দিষ্ট নিয়মের অনাবশ্যকতা।
৮। ধাতুতে ও শব্দে বিবিধ কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয়ের যোগে যথেচ্ছ শব্দগঠন ক্ষমতা।
৯। অক্ষরমূলক ছন্দ পদ্ধতি।
**************************************
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910