
NTRCA College : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের নাটক
প্রশ্ন ২: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের নাটকগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে এক শাশ্বত অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনে যেমন পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনি চেতনার ক্ষেত্রেও ঘটেছে গুণগত বিকাশ। স্বাধীনতার সোনালি প্রভায় আমাদের মন আর মননে চেতনা জাগ্রত হয়েছে সাহিত্যে তার প্রতিফলন ছিল একান্তই প্রত্যাশিত। সেই প্রত্যাশাকে পরিপর্ণূভাবে না হলেও আংশিকভাব অবশ্যই পূরণ করেছে আমাদের সাহিত্য। কেননা, বাংলাদেশের কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনিবার্যভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে। ভাব-বিষয়-আঙ্গিক ও জীবনচেতনায় বাংলাদেশের সাহিত্যে বিশেষত নাটকে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই পরিলক্ষিত হয়। নিচে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নাটকগুলোর পরিচয় দেয়া হলো।
(মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক কর:
OnlineRedingRoom || NTRCA মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বাংলাদেশের উপন্যাস (onlinereadingroombd.com)
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিশ্বাস নিয়ে শুধু স্বাধীনতার পরে নয়, পূর্বেও কিছু নাটক রচিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মমতাজউদ্দীন আহমদের ‘এবারের সংগ্রাম’ এবং ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই দুইটি নাটকেই প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের র্মাচ মাসে। এ দুটি নাটকের মৌলবিষয় ছিল তৎকালীন অবাঙালি শাসকশ্রেণীর অন্যায়, অত্যাচার ও প্রবঞ্চনা। স্বাধীনতার সংগ্রামে এদেশের ছাত্র-জনতাকে অনুপ্রাণিত করাই ছিল এই নাটক দুটির উদ্দেশ্য। স্বাধীনতার কিছুদিন পরেই প্রকাশিত হয় মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক মমতাজ উদ্দীনের অন্যতম নাটক ‘বর্ণচোর(1972)। স্বাধীনতা বিরোধীদের মুখোশ উন্মোচনই ছিল এই নাটকের মূল বিষয়।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য নাটক হলো আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’ (১৯৮৩)। এই নাটকে চিত্রিত হয়েছে বিপদগামী ও আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা, অসৎ-ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের স্বরূপ। আব্দুল্লাহ আল মামুনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাটক হলো- ‘তোমারাই’ (১৯৮৮)। এই নাটকে স্বাধীনতাত্তোর সময়ে দালালদের প্রবল প্রতাপে উত্থানের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের চেতনা প্রবল হবে নাকি স্বাধীনতার শত্রুরা-এ বিষয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছিল। এই বিষয় নিয়েই সেলিম আল-দীন রচনা করেন ‘সংবাদ কার্টুন ’ (১৯৮৪)। এই নাটকে মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের প্রকাশ্য বিচারের দাবী প্রবল করে তোলা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের একটি বেদনাদায়ক দিক ছিল হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারীদের উপর অত্যাচার। এই নির্যাতিত নারীদের বেদনা ও ক্ষোভ নিয়ে রচিত হয়েছে একাধিক নাটক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘নিঃশব্দ যাত্রা’ (১৯৭২), ‘নরকে লাল গোলাপ’(১৯৭৪); মোহাম্মদ এহসানুল্লাহর ‘কিংশুক যে মেরুতে’; জিয়া হায়দারের ‘সাদা গোলাপে আগুন’(১৯৭৪) এবং ‘পঙ্কজ বিভাস’(১৯৭৪); মমতাজ উদ্দীনের ‘কী চাহ শঙখচিল’(১৯৮৫)। উল্লিখিত নাটকসমূহে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদারদের বন্দী শিবিরে আটকৃত নারীদের যাতনার চিত্র শিল্পসফলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বাঙালি জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় ঘটনা-মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, এ পর্যন্ত যতগুলো সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়েছে, এগুলোর মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক রচিত স্বচ্ছ ‘পায়ের আওয়াজ যায়’ নাটকটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম। এটি কাব্যনাট্য ফর্মে রচিত। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। গঠন-শৈলীর মুন্সিয়ানায়, বিষয় উপস্থাপনের চমৎকারিত্বে, জীবনবোধের স্বাতন্ত্র্যে পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটক বাংলাদেশের নাট্য সাহিত্যের ধারায় অভিনব সংযোজন। কেননা, গতানুগতিক নাট্যিক ফর্মে এই নাটকটি রচিত হয় নি। এই নাটকের কাহিনী ও ঘটনা বিন্যাসে কোনো প্রকার অঙ্ক ও দৃশ্যের ব্যবহার করা হয় নি। তবে নাটকীয় দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই নাটকের কাহিনী অগ্রসর হয়েছে। এবং একটি নির্দিষ্ট পরিণতি লাভ করেছে।
(কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ
পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক কর।
OnlineRedingRoom || NTRCA বাংলাদেশের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব (onlinereadingroombd.com)
বিষয় হিসেবে এই নাটকে গৃহীত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের ভাবনা, তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অপরাজেয় সংগ্রামের ইতিবৃত্ত উপস্থাপিত হয়েছে আলোচ্য নাটকে।
নাটকের প্রাণ হলো এর সংলাপ ও ভাষা। সংলাপ ও ভাষা র্নিমাণে সৈয়দ শামসুল হক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেও যে উচ্চাঙ্গের নাটক রচনা সম্ভব তার প্রমাণ দিলেন সৈয়দ শামসুল হক তাঁর পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকে।
তবে, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকটি বিশিষ্ট হয়ে আছে এর ইতিবাচক জীবন চেতনার জন্য। সাধারণ মানুষের অপরাজেয় সংগ্রাম এবং পরিণামে বিজয়ই এই নাটকের মৌল উপজীব্য। যেমন-
এদিকে, এদিকে সব আসেন এখন
দেখাইয়া দেহ সব কোথায় কখন
কি গজব কি আজাবে ছিল লোকজন
জালেমের হাতে ছিল যখন শাসন
শত শত মারা গেছে আত্মীয় স্বজন।
মুক্তিযুদ্ধের অনুষঙ্গ নিয়ে আরো যাঁরা নাটক রচনা করেছেন- তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-সাঈদ আহমদ, মামুনুর রশীদ, কল্যাণমিত্র, আল মনসুর, রণেশ দাশগুপ্ত, হুমায়ুন আহমদ, ইমদাদুল হক মিলন, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।এই পর্বের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো-‘প্রতিদিন একদিন’, ‘জল্লাদের দরবার’, ‘হে জনতা আরেকবার’, ‘ফেরী আসছে’ ইত্যাদি।
শেষত, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনও বিশ্বমানের মহৎ কোনো সাহিত্যকর্মের রচিত হয় নি। গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও নাটক সবক্ষেত্রেই এ কথা সত্য। তবে ভবিষ্যতে আমরা হয়তো বিশ্বমানের কোনো সাহিত্যকর্মের সাক্ষাৎ পাব এই প্রত্যাশাই থাকলাম।
NTRCA School, এর সাজেশন ও সমাধান (১৮ তম বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ) পেতে নিচের লিংকে ক্লিক কর:
***********************************
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910