
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার যুক্তাক্ষর বিবর্তনের সূত্র
প্রশ্ন: প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার যুক্তাক্ষর বিবর্তনের সূত্র আলোচনা কর।
আলোচনা: নিচে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সূত্র আলোচনা করা হলো:
প্রথম বর্ণ যুক্তাক্ষর হলে তাদের একীকরণ হয়। সাধারণত আদিবর্ণের ‘র’-ফলা ‘ব’-ফলা ‘য’-ফলা ইত্যাদির স্থানে ফলার লোপ হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ মধ্য-ভারতীয় আর্য ভাষায় বর্তমান থাকে। বাংলায়ও এরূপ বৈশিষ্ট্য বর্তমান। যেমন:
|
ক্রম |
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা |
প্রাকৃত |
বাংলা |
|
১ |
ব্রাহ্মণ |
বমহন |
বামন |
|
২ |
ত্রীণি |
তিণ্নি |
তিন |
|
৩ |
দ্বে |
দুবে |
দুই |
২। আদি ‘জ্ঞ’ স্থানে প্রাকৃতে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়; বাংলা ‘ন’- কার হয়। যথা- প্রাচীন ভা. আ. ভা. জ্ঞাতিগৃত>পা.ণাইঘর>প্রা. নাইহর> প্রাদেশিক বাংলায় নাইওর।
৩। আদি ‘ক্ষ’ স্থানে ‘খ’ কিংবা ‘ঝ’ হয়, যথা-
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
বাংলা |
|
১ |
ক্ষুর |
খুর |
খুর |
|
২ |
ক্ষরতি |
ঝরই |
ঝরে |
|
৩ |
ক্ষাম |
ঝাম |
ঝামা |
৪। নিম্ন লিখিত স্থানে ফলার লোপ না হয়ে ঊর্ধ্ব বর্ণের লোপ হয়েছে। যথা:
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
বাংলা |
|
১ |
শ্মাশান |
মসাণ |
মশান |
|
২ |
স্নাতি |
ণহাই |
নায় |
|
৩ |
স্নেহ |
ণেহ |
নাই, লাই |
৫। মধ্য-ভারতীয় আর্য ভাষায় কোনও কোনও স্থানে আদি ‘দ্যা’ স্থানে ‘জ’ ‘ধ্য’ স্থানে ‘ঝ’ হয়েছে। বাংলাতেও তদ্রপ যেমনঃ
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
পালি |
প্রাকৃত |
প্রাচীন বাংলা |
আ. বাংলা |
|
১ |
দ্যুত |
জুত |
জুঅ |
- |
জুআ |
|
২ |
ধ্যান |
ঝান |
পোকখরী |
ঝান |
- |
৬। কোন কোন স্থানে আদি সংযুক্ত ব্যঞ্জনের স্থানে বিশেষ পরিবর্তনসহ একক ব্যঞ্জন দেখা যায়। যথা:
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
বাংলা |
|
১ |
স্থামন |
ঠাম |
ঠাঁই |
|
২ |
স্তম্ভ |
থম্ভ |
থাম |
|
৩ |
স্তব্ধ |
ঠডঢ |
ঠান্ডা |
৭। অনাদি প্রাচীন ভারতীয় ‘ত্য’ ,‘থ্য’, ‘দ্য’, ‘ধ্য’ স্থানে ভারতীয় আর্য ভাষায় যথাক্রমে ‘চ্চ’ ‘চ্ছ’ ‘জ্জ’ ‘ঙ্ম’ হয় । তা হতে বাংলা ভাষায় পূর্বস্বরের দীর্ঘত্ব সহ চ,ছ,জ,ঝ, হয়েছে। যথা-
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
বাংলা |
|
১ |
সত্য |
সচ্চ |
সাচা |
|
২ |
মিথ্যা |
মিচ্ছা |
মিছা |
|
৩ |
মধ্য |
মজঝ |
মাঝ |
৮। অনাদি প্রাচীন ভারতীয় ‘স্তৎ’, ‘স্থ’ ইত্যাদি স্থলে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষায় ‘স’-কারের পরবর্তী স্পর্শবর্ণের মহাপ্রাণতাসহ দ্বিত্ব হয়। তা হতে বাংলায় পূর্বস্বরের দীর্ঘত্বসহ ধ্বনির একাকরণ হয়েছে। যথা-
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
প্রাচীন বাংলা |
আ. বাংলা |
|
১ |
হস্ত |
হন্থ |
হাথ |
হাত |
|
২ |
পুষ্করী |
পোকখরী |
পোখরী |
পুকুর |
৯। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাচীন ভারতীয় আনাদি ‘য’ স্থানে মাগধী প্রাকৃতে ‘য়্য’ হয়। তা হতে বাংলায় ‘য়’ হয়েছে। যথা-
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
মাগধী প্রাকৃত |
মধ্য বাংলা |
বাংলা |
|
১ |
আর্যিকা |
অয়্যিআ |
আয়ি |
আই |
১০। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার যুক্তাক্ষরে কোন কোন স্থানে প্রাকৃতে স্বরভক্তি হয়েছে এবং আধুনিক বাংলায় তা রক্ষিত হয়েছে। যথা-
|
ক্রম |
প্রাচীন ভা.আ.ভাষা |
প্রাকৃত |
মধ্য বাংলা |
আ. বাংলা |
|
১ |
অগ্নি |
অগণি |
আগুনি |
আগুন |
|
২ |
শ্রী |
সিরী |
× |
ছিরি |
+88 01713 211 910