
মধ্যভারতীয় আর্য ভাষার প্রধান স্তরের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয়
প্রশ্ন: মধ্যভারতীয় আর্য ভাষার প্রধান স্তরের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও।
আলোচনা: ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল। বর্তমানে একটি ভাষার যে রূপ দেখতে পাই অতীতে সে রকম ছিল না। প্রত্যেক যুগে বা সময়েই ভাষা নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণকে ধারণ করেই বিকাশিত হয়। মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা সম্পর্কেও উল্লিখিত মূল্যায়ন সত্য। রূপতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্বে দিক থেকে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ ছিল। নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলো:
ভারতীয় আর্য ভাষাকে প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত করা হয় এগুলো হলো:
১। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা,
২। মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ও
৩। নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা।
আমাদের আলোচ্য মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার অস্তিত্ব ছিল খ্রি.পূ. ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই ভাষাকে আবার তিনটি স্তরে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। এগুলো হলোঃ
১। আদিযুগ,[খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টীয় ২০০ অব্দ পর্যন্ত]
২। সন্ধি যুগ,[খ্রিষ্টীয় ২০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টীয় ৫০০ অব্দ ]
৩। অন্ত্যযুগ [খ্রিষ্টীয় ৫০০ অব্দ থেকে ৬৫০ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত]
নিচে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার উল্লিখিত তিন স্তরের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলোঃ
১। আদিযুগ, [ অশোকের যুগের পালি প্রাকৃত]
(ক) ঋ ও ৯ ধ্বনির লোপ। এই ধ্বনিগুলো স্বর ধ্বনিতে পরিচর্তিত হয়। অ, ই উ-তে পরিবর্তিত হয়। অ,ই > উ।
(খ) ঐ ঔ ধ্বনি এ ও-তে পরিবর্তিত হয়। ঐ ঔ > এ ও।
(গ) যুগ্ম ব্যঞ্জনের পূর্ববর্তী এ ও ধ্বনির হ্রস্বত্ব প্রাপ্তি।
(ঘ) সংবৃত অক্ষরে দীর্ঘ স্বর হৃস্বস্বরে পরিবর্তিত হয়।
(ঙ) পদের শেষে ব্যঞ্জন ধ্বনি ও বিসর্গ লোপ।
(চ) যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মধ্যে পদের আদিতে একটি লোপ। পদের মধ্যে হলে সমীভবনের ফলে যুগ্ম ধ্বনিতে পরিবর্তিত।
(ছ) তিন স-কারের স্থানে একটি স অথবা (শ) এর ব্যবহার।
(জ) দ্বিবচন লোপ।
২। সন্ধি যুগ, [খরোষ্ঠী ও ব্রহ্মী অনুশাসন]
(ক) দুই স্বর মধ্যবর্তী অঘোষ স্পর্শ ব্যঞ্জন ও মহাপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ ধ্বনিতে পরিবর্তিত। সন্ধিযুগের আরেকটি স্তর বর্তমান ছিল। এই স্তরটিকে ভাষাতাত্ত্বিকগণ নাম দিয়েছেন মধ্যযুগ। নিচে এই যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
মধ্যযুগ: [ নাটকের প্রাকৃত সৌরশেনী, মহারাষ্ট্রী, মাগধী, জৈন, অর্ধমাগধী।]
(ক) স্বর-মধ্যগত একক ব্যঞ্জন অল্পপ্রাণ হলে লোপ পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিল। মহাপ্রাণ হলো হ-কারে পরিণত।
(খ) শব্দরূপের সারল্য দেখা দিল।
(গ) ধাতু রূপে আত্মনেপদ ও দ্বিবচনের লোপ।
(ঘ) অসমাপিকার বৈচিত্র্য হ্রাস।
৩। অন্ত্যযুগ [পশ্চিমা বা সৌরশেনী অপভ্রংশ]
(ক) পদান্তের স্বরধ্বনি ক্রমশ লোপ পেতে থাকে।
(খ) স্বর ধ্বনির আনুনাসিক্য করণের সূত্রপাত।
ড. এ. আই. এম. মুসা
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা
সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর।
+88 01713 211 910